সবে মিটেছে দুর্গাপুজো। পুজোর জন্য রাজ্যের ক্লাবগুলিকে এই বছর ৮৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। কিন্তু তা সত্ত্বেও চাঁদা চেয়ে জুলুমবাজির অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর, এমনকি তাঁর স্ত্রী ও বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মেয়ের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। পুলিশকে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি বলে দাবী।
ঘটনাটি ঘটেছে দমদমের সুভাষনগরে। সেখানকার বাসিন্দা সৌমেন বর্মণ পেশায় একজন জল ব্যবসায়ী। তাঁর থেকে পুজোর সময় চাঁদা বাবদ ৫০ হাজার টাকা চায় স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সৌরভ আইচ ওরফে বাবুলাল। এছাড়াও তাঁর থেকে ১০০ পেটি জলও চাওয়া হয় বলে দাবী ব্যবসায়ীর। তিনি জানান, তিনি নিজের সাধ্যমতো দেওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হয় পুজো কমিটি।
ব্যবসায়ীর অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় ওই তৃণমূল কর্মী বাবুবাল। তাঁকে বাইরে ডেকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর স্ত্রী ও বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মেয়ে বাঁচাতে গেলে, তাদেরও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ।
ওই ব্যবসায়ী জানান, “পুজোর সময় স্থানীয় ক্লাবের অনুষ্ঠানে আমার সাধ্যমতো জল পাঠিয়ে দিই। কিন্তু তার পরও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। ঘটনার দিন রাতে আমাকে ফোনে গালিগালাজ করে বাবুলাল ওরফে সৌরভ। মারধরও করা হয়। বাঁচাতে আসলে স্ত্রী ও মেয়েকেও মারে। আমাদের প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি”।
ব্যবসায়ীর স্ত্রী জানান, তিনি ও তাঁর মেয়ে তাঁর স্বামীকে বাঁচাতে গেলে তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়। তিনি বলেন, “পাড়ার ক্লাব থেকে ৫০ হাজার টাকা ও ১০০ কার্টুন জল চাঁদা হিসাবে চাওয়া হয়। সাধ্যমতো আমরা দিয়েছি। ১৩ তারিখ রাতে আমার স্বামীকে ফোন করে বাড়ির নিচে ডাকেন বাবুলাল। তার পরও ওঁকে মারধর করে। মেয়েকে একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি”।
ওই ব্যবসায়ীর দাবী, এখনও নাকি তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, দমদম থানায় তিনি এই ঘটনার অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেন নি। অভিযুক্ত এখনও অধরা। ওই ব্যক্তির দাবী, অভিযুক্ত বাবুলাল স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর অভিজিৎ মিত্রের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। সেই কারণেই কী অভিযুক্তকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ, প্রশ্ন তোলেন ওই ব্যবসায়ী।
আরও পড়ুনঃ শৌচাগার থেকে উদ্ধার নার্সের ঝুলন্ত দেহ, দেহ লোপাট করার চেষ্টার অভিযোগ হাসপাতালের বিরুদ্ধে, খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে লাশ?
অন্যদিকে যার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, সেই বাবুলালের আবার দাবী, “পুজো কমিটির সঙ্গে কোনও ভাবেই আমি যুক্ত নই। টাকা কেন চাইব? ওই দিন রাতে একটা ঝামেলা হয়েছিল ঠিকই। তবে উনি মদ খেয়ে ঝামেলা করছিলেন। আমি থামাতে যাই। আমাকে আর মাকে ওই ব্যবসায়ী মেরেছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে”।





