বর্ষা ক্যালেন্ডার মেনে দক্ষিণবঙ্গে ঢুকে পড়লেও বাস্তবে সেই স্বস্তির বৃষ্টি এখনও অধরাই। শহর কলকাতা থেকে শুরু করে মফস্বলের জেলাগুলিতে চলছে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। একদিকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, অন্যদিকে রোদের তেজ— দুই মিলে জনজীবন কার্যত নাজেহাল। খুদে পড়ুয়া থেকে অফিসফেরত কর্মী, সকলে চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় আকাশ ভাঙা বৃষ্টির জন্য। কিন্তু বর্ষা কি সত্যিই স্বস্তি আনবে এবার?
আলিপুর আবহাওয়া দফতর আশ্বাস দিচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি মিলতে পারে স্বস্তি। আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় হতে চলেছে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। আজ, ২৫ জুন থেকে শুরু করে ৩০ জুন পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হুগলি, পশ্চিম বর্ধমান-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার বৃষ্টি পৌঁছাতে পারে বীরভূম, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া জেলাতেও। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গেও বর্ষা সক্রিয়। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার ও রবিবার উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
এই বৃষ্টিপাতের পেছনে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল অবস্থা। আগামী দু’দিন অর্থাৎ বুধবার ও বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলে ঘণ্টায় ৩৫–৪৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কোথাও কোথাও তা ঘণ্টায় ৫৫ কিমিতেও পৌঁছতে পারে। ফলে সমুদ্র হবে উত্তাল, যার জেরে দুই দিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সমুদ্রসংলগ্ন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Astrology: বিশেষ যোগে মাহাত্ম্যপূর্ণ আষাঢ় অমাবস্যা! আর্থিক উন্নতি, পদোন্নতির সম্ভাবনা ৩ রাশির জাতকদের জন্য!
এই মুহূর্তে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রির আশেপাশে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বাধিক ৯২ শতাংশ, যা ভ্যাপসা আবহাওয়ার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলছে। তবে আশা জাগাচ্ছে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস— আগামী কয়েকদিনে নিয়মিত বৃষ্টি শুরু হলে গরম ও আর্দ্রতার অস্বস্তি কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।





