এমন সম্প্রীতির নজির হয়ত ভারতেই সম্ভব। দুর্গাপুজোর সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন রানা শেখ ও নাসিরিউদ্দিন কাজিরা। বাকি দায়িত্ব থাকে অমরনাথ দে ও বাপ্পা ঘোষালের উপর। হিন্দু-মুসলিম দুইয়ে মিলেই চলে দুর্গাপুজোর সমস্ত প্রস্তুতি। ধর্ম, জাতপাতকে দূরে সরিয়ে সকলে মিলেমিশে আরাধনা করেন দেবী দুর্গার। এমনই সম্প্রীতির পুজো দেখা যায় নানুরের পাপুড়ি গ্রামে।
এই গ্রাম মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা বলেই পরিচিত। হাতেগোনা কিছু হিন্দু পরিবারের বাস এই গ্রামে। ফলে এলাকায় দুর্গাপুজো যে হবে, সে আশাই কখনও করেন নি হিন্দুরা। দুর্গাপুজো নিয়ে আফসোস করতেন হিন্দু ভাইয়েরা মুসলিম ভাইজানদের কাছে। অবশেষে গ্রামেরই ছেলে কাজল শেখ এই এলাকায় শুরু করেন দুর্গাপুজো। হয়া, মুসলিম ভাইয়ের হাত ধরেই পাপুড়ি গ্রামে মা দুর্গার আরাধনা শুরু হয়।
এই গ্রামের জেলা পরিষদের সভাধিপতি হলেন ফায়জুল হক। শত ব্যস্ততা থাকলেও এই পুজোতে কিন্তু সময় দেন তিনি। উৎসবের যে কোনও ধর্ম হয় না, এটাই মূলমন্ত্র এই গ্রামের বাসিন্দাদের। পুজোর প্রতিমা থেকে শুরু করে মণ্ডপ সজ্জা, বাজারহাট, পুজোর নিয়ম, ভোগ, প্রতিমা নিরঞ্জন, সবটাই হয় হিন্দু-মুসলমানদের হাত ধরেই। পুজোর এই চারদিন স্তোত্র ধ্বনি চলার সময় মাথার ফেজ খুলে চুপ করে থাকেন মুসলিমরা। আবার পবিত্র আজানের সময় কিছুক্ষণ বন্ধ রাখা হয় দুর্গাপুজো। এভাবেই মিলেমিশে দুর্গাপুজোর রীতি চলে আসছে গত ১২ বছর ধরে।
এই পুজো নিয়ে পাপুড়ি গ্রামের বাসিন্দা অমরনাথ দে ও বাপ্পা ঘোষ বলেন, “প্রায় সাড়ে ছহাজার গ্রামবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস। হিন্দু পরিবার রয়েছে বেশ হাতেগোনা কয়েকটি। মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে দুর্গাপুজো করার সাহস এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে দুর্গাপুজোয় অংশগ্রহণ করতে হত পাশের গ্রামগুলিতে। ১২ বছর আগে দুঃখের কথা ভাইজান কাজলকে বলা মাত্রই গ্রামে দুর্গাপুজোর ব্যবস্থা করেন। আর তাতেই গ্রামবাসীরা আনন্দিত”।
আবার কাজল শেখের কথায়, “আমাদের এখানে পুজো মানেই দুর্গাপুজো, মায়ের পুজো। ওরা যদি আমাদের সঙ্গে ইদ পালন করতে পারে তাহলে আমরাও দুর্গাপুজো পালন করতে পারি। এখানে পুজো হবে, ঈদ হবে, বড়দিন হবে সব ধরনের অনুষ্ঠান হবে। আর আমরা একসঙ্গেই সবকিছুতেই সামিল হব। হিন্দু ভাইদের দুঃখ হত পাশের গ্রামে যেত পুজো দেখতে। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এই পুজো হিন্দু-মুসলিম সকলের”।





