হাওড়া-রিষড়া কাণ্ডের জেরে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট তলব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের, সময় ২৪ ঘণ্টা

হাওড়ার শিবপুরের (Shibpur) পর রিষড়ায় অশান্তির (Rishra violence) জেরে গত দু-তিনদিন ধরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার (law and order) চরম অবনতি ঘটেছে। এই ঘটনার কথা কানে গিয়েছে দিল্লিরও। এবার রিষড়ার ঘটনার পরিস্থিতি জানতে চেয়ে রাজ্য সরকারের (state government) কাছে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (Home Ministry)। কেন এই পরিস্থিতি রাজ্যের, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যকে রিপো (report)র্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

বিজেপির অভিযোগ, রিষড়ার অশান্তির জেরে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। আজ, মঙ্গলবার সকালেই এই গোটা বিষয়টি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’কে চিঠি লেখেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই এবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

রিষড়ার এই অশান্তি নিতে বেশ উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও। এই ঘটনার জেরে উত্তরবঙ্গে নিজের সফরে কাটছাঁট করে আজই কলকাতা ফিরে আসেন তিনি। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে যান রিষড়ায়। সেখান থেকে এসএসকেএমে যান এই অশান্তির ঘটনায় আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করতে।

এদিন রিষড়া স্টেশন পরিদর্শন করে কড়া বার্তা দেন রাজ্যপাল। জানান যে কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। এর পাশাপাশি এই ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলিতেও দোষেন তিনি। অন্যদিকে আবার এই পরিস্থিতি যাতে কড়া হাতে মোকাবিলা করা হয়, পুলিশকে সেই নির্দেশই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হুঁশিয়ারি, যারা এমন অশান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।

বলে রাখি, গত সপ্তাহে রামনবমীর সন্ধ্যেয় হাওড়ার শিবপুরে ছড়ায় উত্তেজনা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত রবিবার রিষড়ায় রামনবমীর মিছিলে হামলা করা হয়। আহত হন বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের গাড়ির সামনে হয় বোমাবাজি।

এরপর গতকাল, সোমবার ফের উত্তপ্ত হয় রিষড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকা। চলে বোমাবাজি। চলন্ত ট্রেনে হয় হামলা। এর জেরে গতকাল প্রায় তিন ঘণ্টা ওই শাখায় বন্ধ ছিল ট্রেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। আজ, মঙ্গলবার বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় লোকাল ট্রেনে করেই যান রিষড়া স্টেশনে। সেখান থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এবার এই পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রকে জবাব দিতে হবে রাজ্যকে।

RELATED Articles