করিমপুর-কৃষ্ণনগর রাজ্য সড়কের গায়েই পাশাপাশি দুই অট্টালিকা। সেই দুটি বাড়ি দেখে অনেকেই অবশ্য মজা করেই বলেন ‘জোড়া তাজমহল’। এই দুটি বাড়িই চাপড়ার তৃণমূল নেতা রাজীব শেখের (Rajiv Sheikh) দুই বউয়ের।
২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে রাজীবের বাবা কাংলা শেখ একটি পেট্রল পাম্পে নৈশপ্রহরীর কাজ করতেন। নদিয়ার চাপড়া বাজার থেকে কৃষ্ণনগরের দিকে যেতে কাঁঠালতলা এলাকায় তাঁদের ছোট্ট পৈতৃক বাড়ি। সেখান থেকে কিছুটা গেলেই রাজ্য সড়কের উপর রাজীবের সেই জোড়া অট্টালিকা। দুটি বাড়িই মার্বেলে মোড়া। সুন্দর হলঘর। দুটি বাড়ির অন্দরসজ্জা দেখলে চোখ কপালে উঠবে।
তৃণমূল খমতায় আসার পরই রাজীব ও তাঁর বাবার যে হারে উত্থান হয়েছে, তা চোখে পড়ার মতো। বাম জমানায় সিপিএমের দাপটের মধ্যেও চাপড়া বাঙ্গালঝি কলেজে টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা করেন রাজীব। ২০০৮ সালের পর দু’বছর তিনি ছাত্র সংসদের সম্পাদক ছিলেন। আর ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। সেই বিধানসভা ভোটে জয়ী হন চাপড়ার তৃণমূল প্রার্থী রুকবানুর রহমান। এরপরই কার্যত কপাল খুলে জাত রাজীবের।
তৃণমূলের কর্মীদেরই একাংশের অভিযোগ, পুরনো কর্মীদের সরিয়ে ধীরে ধীরে রুকবানুর ডানহাত হয়ে ওঠে রাজীব। তাঁর বড় বৌ আসমাতারা বিবি বর্তমানে চাপড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। বাবা কাংলা শেখ ক’দিন আগে পর্যন্ত ছিলেন দলের অঞ্চল সভাপতি। রাজীব নিজে ছিলেন চাপড়া ব্লকের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি। তাঁর পদ তেমন না হলেই তাঁর মাথার উপর বিধায়কের হাত থাকায় এলাকায় তাঁর প্রভাব দেখার মতো।
শোনা যায়, এক সময় চাওপড়া ব্লক পঞ্চায়েত সমিতি থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠিকাদারি, সবটাই ছিল রাজীবের হাতে। দ্রুত গতিতে বেড়েছে রাজীবের সম্পত্তিও। একাধিক বাড়ি-গাড়ি, মোটরবাইক, সবই হয়েছে। এর পাশাপাশি হয়েছে শ্রীনগরে বড় পাটের গুদাম, বকলমে তিনটি ইটভাটা, কয়েকজনের অংশীদারিতে সুপার মার্কেটও। নানান জায়গায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি রয়েছে রাজীবের।
কিন্তু এই কয়েক বছরেই এত সম্পত্তি কীভাবে হয়? শাসকদলের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নয় তো?
প্রচণ্ড রেগে রাজীব জানান, “কে বলেছে এ সব কথা? সব পরিশ্রমের টাকা। সৎ ভাবে ঠিকাদারি করেছি। কখনও বেআইনি কোনও কাজ করিনি বা দলকে ভাঙাই নি”। কিন্তু তাহলে এত কম দিনের মধ্যে এত টাকা কীভাবে এল রাজীবের দাবি, “আমার বাবার দীর্ঘ দিনের ভুসিমালের ব্যবসা ছিল। তা ছাড়া, বাবা প্রায় ২২ বিঘা পৈতৃক জমি পেয়েছিলেন, যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা”।
তবে সম্প্রতি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে রাজীব নিজের পদ খুইয়েছেন। চেনা হিসাব পাল্টে গিয়েছে। এক সময়ে যাঁর হাত ধরে রাজীবের এমন উত্থান হয়, সেই বিধায়ক রুকবানুর রহমান জানান, “আমরা জানতাম রাজীবের ঠিকাদারি ব্যবসা আছে। কিন্তু পরে আস্তে আস্তে ওর গোপন আয়ের উৎসগুলো সামনে আসতে শুরু করে। তা নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। সেই কারণেই আমরা ওকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছি”।





