‘এখন বিজেপিকে ভালো লাগছে তাই বিজেপিতে এলাম’, এমন ভাবলেশহীন শতাধিক তৃণমূল সদস্যদের দলে নিল গেরুয়া শিবির, একনিষ্ঠ হবে তো এরা?

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়নি ঠিকই, তবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ফেলেছে তৃণমূল। বিজেপিরও বাংলার ২০ জন সদস্যের নাম প্রকাশিত হয়েছে। আর এই ভোটের আবহে এবার শুরু হয়েছে দলবদলের হিড়িকও। এবার প্রায় শতাধিক তৃণমূল সদস্য যোগ দিলেন বিজেপিতে। কিন্তু তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

কোথায় হল এই যোগদান?  

ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকে। এই ব্লকের ঝাড়ালতা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫/৭৪ বুথে একটি যোগদান সভার আয়োজন করেছিল বিজেপিতে। এই যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ জয়ন্ত রায়। ছিলেন বিজেপি মণ্ডল সভাপতি কমলেশ সিংহ রায়, ধূপগুড়ি বিধানসভার বিজেপি কনভেনার চন্দন দত্তরা।

এদিন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শতাধিক ঘাসফুল শিবিরের সদস্য। তাদের দাবী, তৃণমূলে থাকাকালীন তারা কোনও সুযোগ-সুবিধা পান নি। তাদের বিপদে তাদের দল পাশে দাঁড়ায় নি। সেই ক্ষোভ, অভিমান থেকেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তারা, এমনটাই মত তাদের।
তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানকারী এক সদস্যের কথায়, “আমাদের এখন ভারতীয় জনতা পার্টি ভালো লাগছে। তাই সত্তর জন লোক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে এসেছি। জয়ন্তদার হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নিলাম”।

কী জানালেন বিজেপি সাংসদ?

এই যোগদান প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, “প্রায় সত্তর জন যোগদান করলেন। বেশিরভাগই সংখ্যালঘু। তৃণমূল কীভাবে অপশাসন করছে সকলে জানে। বগটুই, সন্দেশখালি হল জলন্ত উদাহরণ তার। মা-বোনেদের উপর অত্যাচার দেখেই সাধারণ মানুষ যোগদান করলেন”।

তবে এতজন তৃণমূল সদস্য বিজেপিতে যোগ দিলেও, তাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। তাদের কথায়, এখন বিজেপি ভালো লাগছে, তাই তারা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। এমন ভাবলেশহীন সদস্যরা কী সত্যিই আন্তরিকভাবে দলের হয়ে কাজ করবেন বা দলের প্রতি আদৌ তাদের আনুগত্য কতটা থাকবে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

RELATED Articles