গত বুধবার গরু পাচারকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁকে তলব করলেও, কলকাতায় আসা সত্ত্বেও তিনি হাজিরা দিতে যান নি। নিজাম প্যালেসের বদলে তাঁর গাড়ি চলে যায় সটান এসএসকেএমে। সেখানে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি ভর্তি হন উডবার্ন ওয়ার্ডের ২১১ নম্বর কেবিনে।
সিবিআইকে বলা হয় যে শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না। তবে সিবিআই চাইলে তাঁকে হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এই নিয়ে পঞ্চমবার সিবিআই তলব উপেক্ষা করেছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল।
এসএসকেএমে ভর্তি হওয়ার দিন অনুব্রতর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বীরভূমের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। এছাড়াও, ওই জেলার বিধায়ক অনুব্রত ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত রানা সিংহ নিয়মিত নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যাচ্ছেন বলে খবর। কিন্তু বড় নেতাদের কেউই হাসপাতালে যাননি বলা যায়।
দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুব্রতকে দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করেছেন। কিন্তু রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ অনুব্রতর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে সশরীরে হাসপাতালে যাননি বলেই শোনা গিয়েছে।
অনুব্রতকে এখনও সিবিআই জেরা করেনি। তাহলে এখন থেকেই কেন তাঁর সঙ্গে দলের নেতারা দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এর আগে সারদা বা নারদা কাণ্ডের সময় দেখা গিয়েছে যে ধৃত নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে দলের প্রথম সারির নেতারা গিয়েছেন দেখা করতে, কিন্তু ‘কেষ্ট’র বেলায় উলটো ঘটনা কেন, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।
এদিকে, অনুব্রতর এই হাজিরা না দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, অনুব্রত জেলা সভাপতি বা দলের কার্য সমিতির সদস্য হলেও সিবিআইয়ে হাজিরা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ তারত ব্যক্তিগত ব্যাপার। অর্থাৎ তিনি এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন যে এই বিষয় নিয়ে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করে এসেছেন যে কেন্দ্র সরকার ইচ্ছা করেই সিবিআই, ইডি দিয়ে মিথ্যা মামলা করছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই একই সুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বললেও, তিনি এও স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তদন্তের কারণে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়াই উচিত। তিনি নিজেও তেমনটাই করেছেন।
আবার এদিকে এসবের মধ্যেই এসএসসি নিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সিবিআই তদন্ত শুরু করার পর এই ঘটনায় আঙুল তোলা হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যেই বলেন যে এসএসসি সংক্রান্ত নিয়ে কোনও কথা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই বলতে পারবেন, কারণ যে সময়ের ঘটনা এটি, তখন পার্থবাবুই ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তবে সাংবাদিক বৈঠক করে কুণালের এমন মন্তব্য নস্যাৎ করেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর পাল্টা জবাব, “কুণাল মন্ত্রিসভার কেউ নন”। এর জবাবে আবার গতকাল, রবিবার কুণাল মেয়রের নাম না নিয়েই পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “ভাড়াটে সেনা দিয়ে জবাব দেওয়া হচ্ছে”। আবার ফিরহাদ তৃণমূল সাধারণ সম্পাদকের এই মন্তব্য উপেক্ষা করে বলেন, “ আমার একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। সব কথার জবাব দিই না”।
অনুব্রত মণ্ডলকে কোনও বড় নেতার দেখতে না যাওয়া, তাঁর সিবিআই হাজিরা প্রসঙ্গে অভিষেক ও কুণালের মন্তব্য, এদিকে আবার এসএসসি নিয়ে পার্থকে নিশানা করা, এসব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এখন হুলস্থূল কাণ্ড। কী চলছে আদৌ দলের মধ্যে, তা নিয়ে বেড়েছে জল্পনা। দলের একাংশের মতে, দল এটাই বার্তা দিচ্ছে যে কোনও অনিয়মের দায় দলে নেবে না। আবার অন্য এক অংশের কথায়, যদি এমনটা হয়, তাহলে তা হবে বেইমানি। এমন নানান মন্তব্যে এখন ঘাসফুল শিবির জর্জরিত।






