বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি ভুয়ো ভোটার তালিকাভুক্ত করছে, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, তৃণমূলই আসলে ‘ভূত’ ঢোকাচ্ছে ভোটার তালিকায়। রাজ্যে ভোটার পরিচয় যাচাই নিয়ে নতুন নিয়ম আনার দাবি তুলেছেন শুভেন্দু, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে। তাঁর মতে, ভোটের আগে শুধু আধার কার্ড বা ইপিক লিঙ্ক যথেষ্ট নয়, বরং বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ভোটারদের পরিচয় যাচাই করলেই প্রকৃত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, বিজেপিই আসল ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে এবং অনলাইন নথিভুক্তিকরণের মাধ্যমে ভিনরাজ্যের লোকজনকে ভোটার তালিকায় ঢোকাচ্ছে। সম্প্রতি একটি দলীয় সভায় তিনি বলেন, “বাংলার মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে তালিকায় কারসাজি করছে।” তিনি একাধিক তথ্যপ্রমাণ পেশ করে জানান, তৃণমূল জনগণের স্বার্থরক্ষায় লড়বে এবং ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম ঠেকাতে ব্যবস্থা নেবে।
এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ২০২৫-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হতে চলেছে। বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়া কার্যকর করা হলে ভোটদানের স্বচ্ছতা বাড়তে পারে, তবে তা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। রাজনৈতিক দলগুলির এই তরজায় নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন নজরকাড়া বিষয়।
আরও পড়ুনঃ থমথমে যাদবপুর! TMC অফিসে আগুন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একের পর এক FIR!
ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েন চরমে উঠলেও, নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে এটা স্পষ্ট, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘ভূতুড়ে ভোটার’ বিতর্ক বড়সড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।





