সঙ্গীতশিল্পী কেকে-র (KK) মৃত্যুতে গোটা দেশ স্তব্ধ। যে মানুষটা কিছুক্ষণ আগে পর্যন্তও স্টেজ কাঁপিয়েছে, সে হঠাৎ নীরব কি করে হয়ে গেল, তা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুরাগীরা। কলকাতায় অনুষ্ঠান শেষের পর হোটেল রুমে গিয়ে অসুস্থ বোধ করেন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
কেকে-র মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই নানান বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নজরুল মঞ্চের এসি কাজ না করা, নির্দিষ্ট আসন সংখ্যার প্রায় তিনগুণ দর্শক, সব নিয়ে নানান জলঘোলা হচ্ছে। এবার সেই বিতর্কের আগুনে যেন ঘি ঢাললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এই ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ যে ‘রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’-এর কোনও ব্যবস্থা ছিল না। যদিও পুলিশ কমিশনারের তরফে জানানো হয়েছে যে কোনও অব্যবস্থা ছিল না।
এই ঘটনার পর কেএমডিএর সিইও-কে সরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ নজরুল মঞ্চে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। রাজ্যপালের এহেন মন্তব্য নিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জায়গায় ওঁর বসা উচিত”। তদন্তে বারবার দেখা যাচ্ছে রাজ্য সরকার এই ঘটনায় কোনওভাবেই দায়ী নয়, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজ্যপালের এমন মন্তব্যকে উস্কানিমূলক বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতা। আজ, শনিবার নয়াদিল্লির যাওয়ার আগে রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যমে বলেন, “সঙ্গীতশিল্পী কেকে-র মৃত্যু বেদনাদায়ক। আমাকে অনেকে ভিডিও পাঠানো হয়েছে। অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অসাবধানতা এবং গাফিলতির জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে। ভিড় সামলানো বা তা মাথায় রেখে অনুষ্ঠান করা উচিত ছিল। ওখানে চূড়ান্ত অব্যবস্থা ছিল”।
রাজ্যপালের এহেন মন্তব্যের জন্য তাঁকে তোপ দাগেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “রাজ্যপাল কার লোক? শুভেন্দু অধিকারী সরে গিয়ে সেখানে রাজ্যপালের বসা উচিত। মঞ্চে এমন কোনও ইঙ্গিত মেলেনি যে ওঁর (কেকে) শরীর খারাপ লাগছিল। তারপরেও উনি গ্র্যান্ড হোটেলে গিয়েছেন। সেখানে লিফটে ওঁর শরীর খারাপ লাগছিল। তা হলে কীভাবে বোঝা যাবে ওঁর শরীর খারাপ? রাজ্যপাল আগে থেকে বুঝতে পারলে জানালেন না কেন”।





