ট্যুইট যুদ্ধের পর এবার ধুন্ধুমার পত্রযুদ্ধ। করোনা মোকাবিলায় যেখানে সবার এক সঙ্গে মিলে দেশ বা রাজ্যের জন্য লড়াই করার কথা সেখানে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবাংলার চিত্রটা একটু অন্যরকম। এখানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানরা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়তেই বেশি ব্যস্ত। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচ পাতার একটি দীর্ঘ পত্র পাঠিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়’কে আজ তার পাল্টা দিলেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নবান্নে পাঠালেন ১৪ পাতার একটি সুদীর্ঘ পত্র। যে চিঠির ছত্রে ছত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাঁর সাফ অভিযোগ, ‘করোনা ঠেকাতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ’।
১৪ পাতার চিঠি বোমাতে ৩৭ দফা অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রীর ৫ পাতার চিঠির প্রসঙ্গ তুলে তুলে জবাব দিয়েছেন ধনকড়। চিঠিতে বলা হয়েছে, “করোনা ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাজ্য সরকার। দৃষ্টি ঘোরাতেই লাগাতার রাজনীতি করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি চলছে। তথ্য গোপনের চেষ্টা করছেন। আমার ভাষা সম্পর্কে আপনার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। আপনি বলছেন রাজ্যপাল মনোনীত, রাজ্যপাল মনোনীত নন, রাজ্যপাল নিযুক্ত। সংবিধান মেনেই রাজ্যকে কাজ করতে হয়। আমাকে অন্ধকারে রেখে সমস্ত কাজ চলছে।”
উল্লেখ্য, রাজ্যপালকে দেওয়া ৫ পাতার জবাবি চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ‘আপনার শব্দচয়ন ও বলার ভঙ্গি অসাংবিধানিক। আপনি হয়তো ভুলে গিয়েছেন, আমি নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী, আর আপনি মনোনীত রাজ্যপাল।” এদিনে রাজ্যপালের দেওয়া পাল্টা ১৪ পাতার চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাজের কড়া সমালোচনাও করেছেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রীর মাইক নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রচার, সাফাইকর্মীদের সঙ্গে কাজের সমালোচনা করেছেন রাজ্যপাল। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর ৫ পাতার চিঠির পর রাতেই পাল্টা ৫ পাতার চিঠি দেন রাজ্যপাল। তারপরই এদিন আবার ১৪ পাতার চিঠি দিলেন জগদীপ ধনকড়।
এদিকে, একদিকে মানুষ যখন করোনা মহামারীর সঙ্গে যুঝতে ব্যস্ত, তখন রাজ্য-রাজ্যপাল এমন বেনজির সংঘাতের ঘটনায় তোপ দেগেছেন বিরোধীরা। বর্ষীয়ান সিপিআইএম সুজন চক্রবর্তী বলেন, “২ পাতার বদলে ৫ পাতা, তার বদলে আবার ৫ পাতার চিঠি। এবার এখন ১৪ পাতার চিঠি। এটা কোনও কাজের কথা নয়। করোনাতে মানুষ এখন অসহায় চিন্তিত এদিকে সেইসব নিয়ে রাজ্যের কোন খেয়াল নেই”।





