‘তৃণমূলকে খুশি করার জন্যই চৈতালিকে এমন মানসিক হেনস্থা করছে পুলিশ’, স্ত্রীকে পুলিশের জেরার পর ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি

পুলিশ জেরার নামে চৈতালি তিওয়ারিকে (Chaitali Tiwari) হেনস্থা করছে, তৃণমূলকে (TMC) খুশি করতেই এমনটা করছে তারা। এমনই দাবী করলেন বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামী তথা বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি (Jitendra Tiwari)। আসানসোলে পদপিষ্ট কাণ্ডে আজ, শনিবার চৈতালি তিওয়ারিকে জেরা করে পুলিশ। এরপরই ক্ষোভ উগড়ে দেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি।

এদিন সকাল দশটায় চৈতালি তেওয়ারিকে জেরা করতে তাঁর বাড়ি যান পুলিশকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই সময় গোটা অ্য়াপার্টমেন্টটা কার্যত দূর্গে পরিণত হয়েছিল। লোহার ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় চারিদিক। জেরা চলাকালীন সাংবাদিকদের ফ্ল্যাটের ধারে কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশ মাথায় রেখে পুলিশ ২ ঘণ্টা জেরা করে।

এদিন জেরার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চৈতালির স্বামী তথা বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, “জেরার নামে চৈতালি তেওয়ারিকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। আর এটা পুলিশ করেছে তৃণমূলকে খুশি করতে। আজ কিছু তৃণমূল নেতা দুটো করে বেশি রুটি খাবেন”।

তাঁর আরও দাবী, “হাইকোর্ট একমাত্র এই মামলার তদন্তকারী অফিসার বা আইওকে জেরা করার কথা বলেছিল। কিন্তু এদিন সাতজন আধিকারিক আমার ঘরে চৈতালিকে জেরা করেছে। যা হওয়া উচিত ছিল না”।

জিতেন্দ্র প্রশ্ন করেন, “হাইকোর্ট ২ ঘন্টা জেরা করার কথা বলেছিল, তা বলে ২ ঘন্টাই জেরা করতেই হবে? একটু কম সময় জেরা করা যেত না? একজন মহিলাকে এভাবে জেরা করা যায়? চৈতালি তো আপরাধী নয়”।

বিজেপি নেতার কথায়, “জেরার পরে চৈতালি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জানি না, আর পুলিশ জেরা করতে আসবে কি না। তবে হাই কোর্টের নির্দেশ মতো সোমবার ২ ঘন্টা পুলিশ জেরা করতে আসতে পারে”।

বলে রাখি, গত ১৪ই ডিসেম্বর আসানসোল পুরনিগমের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কর্মসূচির আয়োজন হয়। এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা ছিলেন চৈতালি তিওয়ারি। এদিন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সভায় বক্তৃতা দেন। তিনি চলে যাওয়ার পর কম্বল বিতরণের সময় লোকজনদের হুড়োহুড়ি লেগে যায় ও এই ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তিনজনের। এই ঘটনায় মৃত ঝালি বাউরির ছেলে সুখেন বাউরি অভিযোগ দায়ের করেন আসানসোল উত্তর থানায়।

আরও অন্যান্য খবর