মোদী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অনুদান নিতে দেয়নি শাসকদল, নিজের দলের বিরুদ্ধেই বঞ্চনার অভিযোগ, ক্ষোভে সরকারি পদে ইস্তফা প্রাক্তন তৃণমূলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির

এবার ঝুড়ি থেকে একটা একটা করে বেড়াল বেরোতে শুরু করেছে। অন্য কিছু তৃণমূল নেতা বিধায়কের পর ফের একবার শাসকদলের দিকে আঙুল তোলেন দলেরই প্রাক্তন মেয়র তথা আসানসোলের মুখ্য পুরপ্রশাসক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। অভিযোগ, মোদী সরকারের স্মার্ট সিটি প্রকল্পের টাকা আসানসোলকে নিতে দেয়নি রাজ্য সরকার। এর জেরে প্রায় ২০০০ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে পুরনিগমের মানুষ। এরপর মমতার সরকার সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনও পূরণ করে নি। এই নিয়ে জিতেন্দ্র তিওয়ারি আগেই চিঠি দিয়েছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। এবার সরকারি সুপারিশে প্রাপ্ত পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন জিতেন্দ্রবাবু।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার স্মার্ট সিটি প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত করী আসানসোলকে। এর জন্য ২০০০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার কথা ছিল আসানসোল পুরনিগমের। কিন্তু এই অনুদানের পথে বাধার সৃষ্টি করে রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক কারনে কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত টাকা নিতে দেয়নি শাসকদল। এর পরিবর্তে, সেই টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় রাজ্য। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনওরকমের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি অভিযোগ তুলে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে চিঠি দেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি।

মোদী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অনুদান নিতে দেয়নি শাসকদল, নিজের দলের বিরুদ্ধেই বঞ্চনার অভিযোগ, ক্ষোভে সরকারি পদে ইস্তফা প্রাক্তন তৃণমূলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির

নিজের দলের বিরুদ্ধেই বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি। এরপরই আজ সকালে রানিগঞ্জ মহিলা কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁর ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে কলেজের সামনে। পড়ুয়ারা দাবী তুলেছে, জিতেন্দ্রবাবুকে ইস্তফা প্রত্যাহার করতে হবে।

তাঁর ইস্তফার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রানিগঞ্জ মহিলা কলেজের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে তৃনমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। তাদের দাবী, জিতেন্দ্রবাবু থাকাকালীন কলেজের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। তাই তাঁর ইস্তফা দেওয়া চলবে না। প্রয়োজনে এই ইস্তফাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছে পড়ুয়ারা। তাদের সেই ডাকে শাসক দলনেত্রী আদৌ সাড়া দেন কী না বা নিজের দলের লোককে দলে টানতে তিনি কতটা কাজ করেন, এখন সেটাই দেখার।

RELATED Articles