লাগাতার ঝড়ঝাপটায় বেহাল তৃণমূলের তরী! শুভেন্দু, রাজীব, শীলভদ্র একাধিক সমস্যার হয়নি সমাধান, লাগাতার দল ছাড়ছেন কর্মীরা।
এরই মাঝে পত্র বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন আসানসোলের মুখ্য পুরপ্রশাসক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। গতকাল অর্থাৎ সোমবার প্রকাশ্যে আসে তাঁর লেখা একটি চিঠি। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ্য করে লেখা ওই চিঠিতে তিনি জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক কারণে আসানসোলকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা থেকে বঞ্চিত করেছে রাজ্য সরকার। বদলে কোনও ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। এর পরই উত্তাল হয় বঙ্গ রাজনীতি। মাঠে নেমে পড়ে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি।
এরই মধ্যে দোষ জিতেন বাবুর ওপর ঠেলতে সংবাদমাধ্যমে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, চিঠি লিখে মোটেও ঠিক কাজ করেননি জিতেন্দ্র তিওয়ারি। ব্যাপারটা কথা বলে মিটিয়ে নেওয়া উচিত ছিল।
তবে চুপ করে থাকেননি আসানসোলের মুখ্য পুর প্রশাসকও। নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করে তিনি জানান, চিঠি তিনি ফাঁস করেননি। গোপন চিঠি ফাঁস করেছেন ফিরহাদই। তিনিই সবাইকে দল থেকে তাড়িয়ে একা ক্ষমতা ভোগের চেষ্টা করছেন।
এরপরই তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যের যাবতীয় উন্নয়নের টাকা কেনও শুধুমাত্র বরাদ্দ হয় কলকাতা ও বিধাননগরের জন্য? কেনও বড় প্রকল্প পায় না আসানসোল বা অন্য বড় শহরগুলি?
তৃণমূলের নড়বড়ে পরিস্থিতিতে এই ঝামেলার জল বহুদূর গড়াচ্ছে দেখে তৎপর হয় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে জিতেন তিওয়ারির সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেই বৈঠকে থাকার কথা রয়েছে প্রশান্ত কিশোরেরও। কিন্তু সেই বৈঠকে তিনি যোগ দেবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রাখলেন আসানসোলের মুখ্য পুরপ্রশাসক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। মঙ্গলবার সকালে তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে যাব না পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলব তা এখনও ঠিক করিনি।
জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানান, ’১৮ই ডিসেম্বর উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ মিনিট সময় দেবেন বলেছেন। ফলে আজ যাওয়ার দরকার রয়েছে না ম্যাডামের সঙ্গে কথা বললেই হবে সেটা জেনে কলকাতা যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।’
তবে নগরপাল ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, সোমবার তিন বার জিতেনবাবুকে ফোন করেছেন তিনি কিন্তু সেই ফোন ধরেননি জিতেন্দ্র তিওয়ারি।





