‘বিজেপি নেতৃত্ব মানুষকে মানুষ ভাবে না…’, মাদারিহাটে বিজেপি হারতেই ফের বিস্ফোরক জন বার্লা, সত্যিই তৃণমূলে যাচ্ছেন প্রাক্তন সাংসদ?

মাদারিহাট মানেই বিজেপির একচ্ছত্র রাজ। অন্তত এতদিন তেমনটাই ছিল। কিন্তু উপনির্বাচনে সমস্ত হিসাব যে ঘেঁটে ‘ঘ’। নিজেদের দখলে থাকা উত্তরবঙ্গের এক কেন্দ্রটি আর ধরে রাখতে অক্ষম গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, এই কেন্দ্রে প্রথমবার ফুটল ঘাসফুল। মাদারিহাটে বিজেপির হারের পরই ফের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন প্রাক্তন সাংসদ জন বার্লা।

উপনির্বাচনের আগে থেকেই দলের বিরুদ্ধে নানান মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছিল তাঁকে। এমনকি, মাদারিহাটের তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পোর সঙ্গে বেশ খোশমেজাজে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেই থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনা। তবে পরবর্তীতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে বিজেপির প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু মাদারিহাট বিজেপির হাতছাড়া হতেই ফের বিস্ফোরক জন বার্লা।   

প্রাক্তন সাংসদের দাবী, “যে ভাবে চা বাগানের নেতৃত্বকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোথাও বিজেপির জেলা কমিটিতে চা বাগানের নেতৃত্বকে স্থান দেওয়া হয়নি। কলকাতায় বসে সিদ্ধান্ত নিলে এরকমই হবে। মালবাজার, ধূপগুড়ি তো গেল, নেতৃত্ব এভাবে চললে আগামী দিনে জলপাইগুড়ি, মেখলিগঞ্জ সব যাবে। এই নেতৃত্ব মানুষকে মানুষ ভাবে না। আমি চুপ করে বসে গেলাম”।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চা বাগানের ভোট মানেই তা বিজেপির, এমন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জেরেই মাদারিহাটে বিজেপির এই ভরাডুবি। তাছাড়াও, শাসক দলের প্রার্থী নির্বাচন, বিজেপির দ্বন্দ্ব, জন বার্লার বেসুরো মন্তব্য এই সবকিছুই মাদারিহাটে জমি পক্ত করতে সাহায্য করেছে তৃণমূলকে। যদিও জন বার্লার কথায়, “অহংকারের পরিণাম এও ফলাফল”। এই পরাজয়ের জন্য পরোক্ষভাবে সাংসদ মনোজ টিগ্‌গাকে নিশানা করলেন জন বার্লা।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে মনোজ টিগ্‌গাকে দেগে জন বার্লা বলেছিলেন, “এমন ভাবখানা যে ও শুধু এমপি নয়, ওই জেলায় দলের জেলার চেয়ারম্যান, ওই যেন বিধায়ক। ওয়ান ম্যান আর্মি যাকে বলে আর কি! ও যদি একাই সব বুঝে নিতে পারে তাহলে বাকিদের দলে থেকে লাভ কি”?

আরও পড়ুনঃ ‘জমিদার নই, মানুষের পাহারাদার আমরা…’, উপনির্বাচনে তৃণমূল ছক্কা হাঁকাতেই শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে পোস্ট মমতার, বিজেপিকে ফুট কাটলেন অভিষেকও

প্রসঙ্গত, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে জন বার্লার বদলে মনোজ টিগ্‌গাকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি। ভোটে জেতার পর এলাকায় শুরু হয়েছে তাঁরই দাপট। ফলে জায়গা হারাচ্ছেন জন বার্লা। এমন আবহে তিনি তৃণমূলে যোগ দেবেন কী না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এদিন তিনি বলেন, “এব্যাপারে এখনই কোনও কথা বলব না। আমার টিম আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে সবার যেটা ভালো হয় সেটা করব”।

RELATED Articles