নিজেদের ১০ দফা দাবীতে অনড় জুনিয়র চিকিৎসকরা। সরকার দাবী না মানলে কোনওভাবেই তাদের আমরণ অনশন উঠবে না। ইতিমধ্যেই এই অনশন মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৪ চিকিৎসক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তারা। চিকিৎসকদের এই অনশনকে কটাক্ষ করেছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর সেই কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিলেন জুনিয়র চিকিৎসক দেবাশিস হালদার।
কী বলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
জুনিয়র চিকিৎসকদের অনশনকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কীসের অনশন। এখন তো অনশন হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত। আমরণ অনশন তো নয়। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে দেখলাম একজন অনশন শুরু করেছে। বিকালেই চলে গেল হাসপাতালে। দমই নেই। ওরা মানুষের সেবা করতে আসেনি। নিজেদের ব্যাপারটা গুছিয়ে নিতে এসেছে। গ্রামের মানুষের কাছে যান না তাঁরা বুঝিয়ে দেবেন। ওই ধর্মতলায় সেফ জোনে অনেক কিছু বলা যায়। ৫০টা ক্যামেরা নিয়ে যা কিছু বলা যায়। সিবিআইয়ের বিরুদ্ধেও তো একটা মামলা করতে পারত। আসলে ডাক্তার যে ছেলেগুলো করছে এরা বাচ্চা ছেলে, এদের মাথাগুলো খাচ্ছে বুড়ো মাথাগুলো। কিছু সিনিয়র ডাক্তার আছে, মাকু পার্টি আছে। বলছে সবাই আসতে পারে, রাজনৈতিক নেতারা আসতে পারবে না। নেতারা এলে চিহ্নিত হয়ে যাবে। কত রগড় দেখব। মানুষ এদের কাউন্টই করছে না। এরা ডাক্তার হওয়ার অযোগ্য। ডাক্তাররাও মানুষদের খ্য়াপাচ্ছে”।
এর পাল্টা জবাব দিয়ে দেবাশিস হালদার বলেন, “তিনি চেয়েছিলেন যে অনশনকারীরা এখানে বসে মরে যাক। তাই তো! এটাই তো উনি চান? দম ধরে রাখার কথা বলে তিনি কী বোঝাতে চাইলেন। যে এখানে বসে থেকে… আমরা যখন দেখব যে এখানে অনশনকারীরা মরে যাচ্ছে, তখনও আমরা হস্তক্ষেপ করব না। এটাই উনি চান। এই প্রশ্ন বরং তাঁকেই করা হোক, যে দম ধরে রাখা মানে কী? আমরা অনশন করছি। এখানে কেউ চকোলেট, স্যান্ডউইচ খেয়ে অনশন করছে না। আমরা জানি এখানে অনশন করলে কার শরীরে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে”।
TMC MP Kalyan Banerjee has mocked the Junior Doctors by saying that they are doing Fast unto Hospitalisation instead of Fast unto Death. This means that he wants the Junior Doctors to die 🙂
Dr. Debashis Halder Da of WBJDF gave a fitting reply to his remarks! He said that Junior… pic.twitter.com/kOZHoDhcgp— Dr. Abhinaba Pal (@abhinabavlogs) October 14, 2024
দেবাশিস হালদার সরাসরি কারোর নাম করেন নি। তবে বিরোধীরা অনেকেই অভিযোগ করেন, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন, সেই সময় নাকি তাঁর ওজন বেড়ে গিয়েছিল। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চাও কম নয়। অনেকেরই দাবী, চকোলেট ও স্যান্ডউইচ খেয়ে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন তিনি। চিকিৎসক দেবাশিস হালদার যে সেদিকেই ইঙ্গিত করলেন, তা বেশ স্পষ্ট।
বলে রাখি, অনশন মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন একের পর এক চিকিৎসক। আগেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন চিকিৎসক অনুষ্টুপ মুখোপাধ্যায় ও পুলস্ত্য আচার্য। গতকাল, সোমবার অসুস্থ হয়ে পড়েন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক তনয়া পাঁজা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।





