সাদা অ্যাপ্রনে রক্তের ছাপ, তিলোত্তমার যন্ত্রণার কথা জানিয়ে এবার অনন্য প্রতিবাদে সামিল জুনিয়র চিকিৎসকরা

সাদা অ্যাপ্রন ও গলায় স্টেথোস্কোপ, এই রূপেই এক চিকিৎসককে দেখে অভ্যস্ত আমরা। কিন্তু সেই সাদা অ্যাপ্রনে যদি রক্তের দাগ লাগে, তখন? এমনই তো হয়েছিল আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে। রক্তের দাগ লেগেছিল তাঁর অ্যাপ্রনে। এবার তাই সেই রক্ত মাখা অ্যাপ্রন হয়ে উঠল জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের প্রতীক। সেই প্রতীক নিয়েই আন্দোলনে সামিল হবেন তারা।

জানা গিয়েছে, সাদা অ্যাপ্রনে দশ আঙুলের রক্তের ছাপ, এমন ভাবেই আজ, চতুর্থীর দিন রোগীদের পরিষেবা দেবেন মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকরা। রোগী ও তাদের পরিজনদের কাছে তিলোত্তমার যন্ত্রণার কথা তুলে ধরতেই এমন অনন্য প্রতিবাদ তাদে। সিনিয়র চিকিৎসকদেরও এই অ্যাপ্রন পরার অনুরোধ জানান তারা।

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন কর্মবিরতি পালন করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। বর্তমানে কাজে ফিরলেও তাদের আন্দোলন জারি রয়েছে। নিজেদের ১০ দফা দাবী নিয়ে আমরণ অনশনে বসেছেন তারা। এবার তরুণী চিকিৎসকের যন্ত্রণার কথা সাধারণ মানুষকে মনে করিয়ে দিতে সাদা অ্যাপ্রনে রক্তের ছাপ লাগিয়ে পরিষেবা দেবেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।   

এই বিষয়ে এক মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসক বলেন, “সব মেডিক্যাল কলেজেই সোমবার এই অ্যাপ্রন পরে রোগী পরিষেবা দেবেন জুনিয়র ডাক্তাররা। আমরা এটা পরেই কাজ করব। কারণ আমাদের অ্যাপ্রন এখন রক্তাক্ত”।

অন্য এক আন্দোলনরত চিকিৎসকের কথায়, “বহুদিন কেটে যাওয়ার পরও কোনও সুরাহা সেভাবে দেখিনি। আমাদের সতীর্থরা অনশন করছেন। আমাদের দাবী নিয়েই লড়ছি আমরা। বিচার চাইছি। গুরুতর অন্যায়ের পরেও কোনও ব্যবস্থা নেই। এসবের প্রতিবাদ হিসেবেই এই উদ্যোগ। আমরা আমাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী অ্যাপ্রনের মাধ্যমেই প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ওটি নয়, যেখানে যেখানে কাজের প্রয়োজনে এই পোশাক ব্যবহার করা যায়, আমরা করব”।

আর এক আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা কাজে ফিরেছি। কিন্তু, অপরাধ কমেনি। ধর্ষকদের বিন্দুমাত্র ভয় নেই, কারণ উপযুক্ত শাস্তি হয়নি। তাই, দিনের পর দিন একই অপরাধ করতে পারছে”।

আরও পড়ুনঃ এবার জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে অনশনে বসবেন সিনিয়র চিকিৎসকরাও, আন্দোলন আরও তীব্রতর হচ্ছে

জুনিয়র চিকিৎসক অরুণাভ চৌধুরীও জানান, “কাজ করছি। কাজে ফিরেছি আমরা। কিন্তু প্রতিবাদ থামবে না। আজও কোনও সুরাহা নেই। প্রশ্ন উঠছে নিরন্তর। আমরা আমদের এই অ্যাপ্রনেই প্রতিবাদের ভাষা খুঁজছি। এটা পরেই আউটডোর করব”।

আরও অন্যান্য খবর