‘পুলিশ বলেই সাত খুন মাফ নাকি’, আদালতকে ভুল পথে চালনা করায় আইসি-কে জেলে পাঠানোর প্রস্তাব হাইকোর্টের বিচারপতির

আদালতকে ভুল পথে চালনা করার অভিযোগ উঠল এক পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে। এর জেরে বেশ চটে যান কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা। আদালত সূত্রের খবর, এদিন পুলিশের ভূমিকায় বিচারপতি এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে নিজের এজলাসেই তিনি সরকারি আইনজীবীর কাছে জানতে চান যে পুলিশ বলেই সাত খুন মাফ হয়ে যায় কী না!

এদিন বিচারপতি এও প্রশ্ন তোলেন যে আদালতকে ভুল পথে চালনা করার জন্য ইই পুলিশ অফিসারকে কেন দু’মাসের জন্য জেলে পাঠানো হবে না? এরপরই তিনি নির্দেশ দেন যে আগামী ১৫ দিনেরত মধ্যে এই বিষয় হলফনামা দিয়ে আদালতকে সবটা জানাতে হবে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, মাস কয়েক আগে কিছু দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার রায়নার বাসিন্দা সুরজ প্রতাপ। অভিযোগ ওঠে যে সুরজ প্রতাপকে গলা কেটে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সুরজ অভিযোগ করেন যে এই বিষয়টি পুলিশকে জানালেও কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। এই কারণ বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান যে এই মামলায় গত ৩১শে জানুয়ারি চার্জশিট জমা পড়েছে। কিন্তু সুরজ অভিযোগ করেন যে কোনও চার্জশিট জমা পড়ে নি। পুলিশ মিথ্যে কথা বলছে বলে দাবী তোলেন তিনি। এই বিষয়টি খোঁজ নিতে গিয়েই চমক ওঠেন বিচারপতি। এর জবাবে সরকারি আইনজীবী জানান যে ওই আইসি তাঁকে জানিয়েছিলেন বলেই চার্জশিটের কথা তিনি আদালতে জানিয়েছিলেন।

আইনজীবী এও জানান যে এই বিষয়ে তাঁর আর কিছু জানা নেই। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই বেশ ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি। আদালতকে কেন এভাবে ভুল পথে চালনা করা হল, তা জানতে চান তিনি।

বিচারপতি এমনও প্রশ্ন তোলেন যে আইসির বিরুদ্ধে কেন কোনও বিভাগীয় তদন্ত হবে না? পুলিশ বলেই কী সাত খুন মাফ হয়ে যায়? এই মামলায় আগামী ৬ই মে পুলিশকে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ছন বিচারপতি। ওইদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

RELATED Articles