বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে দল বদলের রাজনীতি। একাধিক নেতা, বিধায়ক ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলে ঘাঁটি গেড়েছেন। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীও। গতমাসেই দল ছেড়ে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এরই মধ্যে বিজেপির মহাসচিব যা ঘোষণা করলেন, তাতে কার্যত মুষড়ে পড়েছে তৃণমূল।
দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে দলেরই একাধিক নেতা-বিধায়ক। তৃণমূল নিজের মুখে স্বীকার না করলেও, এই দল বদলের ঘটনায় যে ঘাসফুল শিবিরে বেশ ভালোই প্রভাব পড়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এরি মধ্যে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, “তৃণমূলের ৪১জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা আমাদের সঙ্গে সবসময় রয়েছেন, যোগাযোগ রাখছেন। তবে দলের ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট না হয়, সেই বুঝে আমরা লোক নেব দলে। “
বিজয়বর্গীয়র কথায়, এই বিপুল সংখ্যক বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলে তৃণমূল সরকার ভেঙে পড়বে। কিন্তু এখনই এমনটা হোক, তা চাইছে না গেরুয়া শিবির। তবে ঠিক কোন কোন তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দুতে চাইছেন, এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি কৈলাস বিজয়বর্গীয়।
এদিকে, গত বুধবার হাওড়া ময়দানে অনুষ্ঠিত হওয়া যোগদান মেলায় বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ বলেন যে তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ও নাকি বিজেপিতে যোগ দেবেন। তবে তাঁর এই মন্তব্য সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিতে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, এই দাবী মিথ্যে। তিনি তৃণমূলে ছিলেন, থাকবেন। এর পাশাপাশি, এ হেন মন্তব্য করার জন্য সৌমিত্র খাঁ-কে মিথ্যেবাদী বলেও দাগেন তিনি।
অন্যদিকে, গতকাল নিজের ফেসবুকের ফ্যানপেজ থেকে একটি পোস্ট করে দলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। এও জানান যে, তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তিনি আগামী শনিবার জানাবেন। কিন্তু এরই মাঝে আজ তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করে দিল্লিতে রওনা দিয়েছেন তিনি। তিনিও এবার বিজেপিতে যোগ দেন কী না, এখন তাই-ই দেখার।





