বোলপুরের নীচুপট্টিতে দীপান্বিতা অমাবস্যার পুজো ছিল দেখার মতো। অনুব্রত মণ্ডলই এই পুজোর হত্তাকত্তা ছিলেন। সেই কারণেই এই কালীর নাম হয়ে কেষ্ট-কালী। কিন্তু গত ২ বছর ধরে কেষ্ট জেলে। ফলে পুজোর জৌলুস কমেছে। রীতিমতো চাঁদা তুলে করতে হচ্ছে পুজো।
গরু পাচার মামলায় গত বছরের আগস্ট মাসে গ্রেফতার হন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। বেশ কয়েকমাস আসানসোলে জেলে থাকার পর বর্তমানে দিল্লির তিহাড় জেলে রয়েছেন তিনি।
এক সময় নীচুপট্টির কেষ্ট-কালী গায়ে থাকত ৫৫০ ভরির উপরে সোনার গয়না। এমনও শোনা যায়, যখন এই পুজো শুরু হয়, তখন প্রতিমাকে ১৮০ ভরির মতো সোনার গয়নায় সাজানো হয়েছিল। ধীরে ধীরে সোনার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ২৬০, ৩৫০ এমনকী ৫৭০ অবধি হয়। এবারও প্রতিমা অলঙ্কারে সেজেছে। তবে এবার মাত্র ৮০ ভরি গয়নাই রয়েছে মায়ের গায়ে। তবুও সেই অলঙ্কার পুরোটাই সোনার কী না, তা স্পষ্ট নয়।
বোলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ের কালীপুজো মানেই প্রতিমার গহনার সাজ আলাদা আকর্ষণ সকলেই কাছেই। রাজকীয় সাজসজ্জা ছিল অন্যতম আলোচনার বিষয়। যদিও বীরভূমের তৃণমূল জেলার সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “নকল নয় এগুলি আসল সোনা। তবে ৫৭০ ভরির বদলে শুধু ৭০ ভরির মত গহনা এবার পরানো হয়েছে’।
যখন কেষ্ট এলাকায় ছিলেন, তখন এই পুজো নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত মাসখানেক আগে থেকেই। এবার এই পুজো নিয়ে বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “পুজো একটা মানুষের জন্য কখনও বসে থাকে না। পুজো চালিয়ে যেতে হয়। বীরভূম জেলার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের অনুরোধে পুজো হবেই। আমরা সকলকে আসতে বলেছি। বীরভূমের জেলার নেতা কর্মীরাই চাঁদা দিয়েছেন। তা দিয়ে পুজো হচ্ছে। বিধায়ক, সাংসদ সকলের সাহায্য নিয়েই পুজো হচ্ছে”।
এই বছর সেই সেই পুজোর তদারকি করেছেন সভাধিপতি কাজল শেখ। গতকাল, রবিবার তিনিই এই পুজোর উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেন, “মিথ্যা মামলায় দাদাকে জেলে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমি অনুব্রতর ছোট ভাই ও পরিবারের সদস্য। অনুব্রত মণ্ডলের চলার পথকে অনুসরণ করেই আমি চলি।পুজোয় পাড়া-প্রতিবেশী মণ্ডল পরিবারের সঙ্গেই থাকব। দাদার শূন্যতা, খুবই দুঃখের এবং বেদনার”।





