কালীপুজোর রাতে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পুলিশের গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ লাগে এক বাইকের। এই দুর্ঘটনার জেরে মৃত ৩ যুবক। পুলিশ আধিকারিক-সহ দুইজন আহত। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার গোপালনগর থানার গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চারাতলা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল, রবিবার বনগাঁ মহিলা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক অপরাজিতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাটাবেড়িয়া থেকে বনগাঁর দিকে আসছিলেন। সেই সময় চারাতলার কাছে উল্টো দিক থেকে একটি বাইক পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা মারে।
জানা গিয়েছে, বাইকে দুজন যুবক ছিলেন। ধাক্কার জেরে বাইক থেকে ছিটকে পড়েন তারা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের। পুলিশের গাড়ির সঙ্গে বাইকের এই সংঘর্ষের জেরে স্থানীয় এক বাসিন্দারও মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের নাম তন্ময় কীর্তনিয়া, সুজিত হালদার এবং অমিত মাঝি। তাঁরা গোপালনগর থানার পাঁচপোতা গ্রামের বাসিন্দা। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বনগাঁ থানার আধিকারিক অপরাজিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে অপরাজিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নাটাবেরিয়া থেকে বনগাঁর দিকে যাওয়ার সময় আচমকা একটি বাইক মুখোমুখি এসে আমাদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। দুঘটনাস্থলেই দুই বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়”।
যদিও নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল। আর এর জেরেই তিন যুবককে দিতে হয়েছে। দুর্ঘনাটিতে স্থানীয় এক বাসিন্দার বক্তব্য, “কালীপুজোর জিনিস কিনতে যাওয়ার সময়েই পুলিশের গাড়ি বাইককে ধাক্কা মারে। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দেহ পড়েছিল”।
এই দুর্ঘটনার জন্য পুলিশের দিকে আঙুল তুলেছেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়াও। বনগাঁ হাসপাতালে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অশোক কীর্তনীয়ার কথায়, “দুর্ঘটনার পর দুই ঘন্টা পর্যন্ত দু‘জন যুবককে ফেলে রাখা হয়েছিল। ঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাণগুলি বেঁচে যেত”।





