কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে যুগলের প্রকাশ্যে চুম্বনের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একাংশের দাবি, এ ধরনের কাজ প্রকাশ্যে করা অনুচিত। অন্যদিকে, আরও অনেকে যুগলের পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, ভালোবাসার প্রকাশ করতে কোনও অপরাধ হয়নি। ভিডিয়োটি কবে তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে মেট্রো কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও মন্তব্য না করলেও নেটিজেনদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো উত্তেজনা চলছে। ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই ৪.১ লাখ ভিউ ছাড়িয়েছে।
নেটিজেনদের একটি অংশের মত, প্রকাশ্যে চুম্বন করা সামাজিক রীতিনীতির পরিপন্থী। তাদের বক্তব্য, এভাবে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত বিষয় দেখানোর মানসিকতা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলছেন, “কলকাতা কি লন্ডন হয়ে যাচ্ছে?” অন্যদিকে, কিছু নেটিজেন এই বিতর্ককে একেবারেই গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁদের মতে, বছরের শেষ দিকে বিতর্কিত বিষয়গুলি যেন নিয়মিত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, বহু নেটিজেন এই যুগলের সমর্থনে সরব হয়েছেন। তাদের মতে, যুগল কোনও অপরাধ করেননি। একজন মন্তব্য করেছেন, “যখন জনসমক্ষে মহিলাদের শ্লীলতাহানি হয় বা পুরুষদের হেনস্থা করা হয়, তখন কোনও আওয়াজ ওঠে না। ভালোবাসার প্রকাশ করতে গিয়ে কেন এত প্রশ্ন ওঠে?” আরও একজন বলেন, “যেখানে প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করা যায়, সেখানে সামান্য চুম্বনে সমস্যা কোথায়?” এই বিতর্ক সমাজের দ্বৈত মানসিকতার প্রতিফলন বলেও কেউ কেউ মত দিয়েছেন।
তবে এই ভিডিয়ো প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আরও অনেকে। যুগলের অনুমতি ছাড়াই ভিডিয়ো করা এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা কতটা নৈতিক, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। কিছু নেটিজেন বলেছেন, “অনুমতি ছাড়া ভিডিয়ো করা অন্যায়। তবে সেই সঙ্গে এটাও ঠিক, এই ধরনের প্রকাশ্য চুম্বনের ঘটনা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ।” এই মতামত থেকেই নেটিজেনদের একটি বড় অংশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পৌষের শুরুতেই শীতের দাপট, আপাতত শুষ্ক আবহাওয়া রাজ্য
সবশেষে, এই বিতর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ সপক্ষে, কেউ বিপক্ষে, কেউ আবার নিরপেক্ষ থেকেছেন। একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “শীতের আমেজে এই ধরনের বিতর্ক যেন প্রতি সপ্তাহেই নতুন বিষয় তৈরি করছে। ভালোবাসার প্রকাশ নিয়ে এতটা বিরোধিতা না করে এগুলোকে উদার দৃষ্টিতে দেখা উচিত।” কালীঘাট মেট্রোর চুম্বন-কাণ্ড নিয়ে বিতর্ক আরও কতদিন চলবে, তা সময়ই বলবে।





