নারদ কাণ্ডের সূত্র টেনে রাজ্যপালকে ‘রক্তচোষা’, ‘সংবিধানের কসাই’ বলে তীব্র তোপ দাগলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

নারদ কাণ্ড নিয়ে সিবিআই তৎপর হওয়ার পর থেকেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে নানাভাবে আক্রমণাত্মক কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিবিআইয়ের তদন্তের পিছনে রাজ্যপালের মদত রয়েছে, এমনটাই অভিযোগ আনেন তিনি। এবার ফের একবার রাজ্যপালকে শানালেন তৃণমূল সাংসদ।

ফের একবার জগদীপ ধনখড়কে ‘রক্তচোষা’ বলে তোপ দাগেন তিনি। শুধু তাই নয়, রাজ্যপাল ‘সংবিধানের কসাই’, এমনটাও দাবী কল্যাণের। এর পাশাপাশি তিনি জনগণকে অনুরোধ করেন সকলে যেন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রাজ্যের নানান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

আরও পড়ুন- থামেনি ভোট পরবর্তী হিংসা! উদ্ধার বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ, ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

গত সোমবারই নারদ কাণ্ডে রাজ্যের দুই মন্ত্রী, এক বিধায়ক ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়রকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। সেই মামলার শুনানিও হয়েছে। আপাতত গৃহবন্দি এই চার নেতামন্ত্রী। আজ, রবিবার এই কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “রাজ্যপাল নিজে গ্রেফতার করিয়েছেন। ২০২১-এ সিবিআই অনুমোদন চাওয়ার জন্য রাজ্যপালের কাছে দরবার করে। আইন তো বলে রাজ্য সরকারের মাধ্যমে যেতে। এ নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। তাতে যা সিদ্ধান্ত হবে তাতে রাজ্যপাল সহমত হতেও পারেন, আবার নাও পারেন। কিন্তু সিবিআই কী ভাবে সরাসরি রাজ্যপালের কাছে যেতে পারে”? তাঁর দাবী রাজ্যপালই ওদের ডেকে এনেছেন। এমনকি, অভিযোগ শানিয়ে তিনি বলেন রাজ্যপাল ৭ই মে সিবিআইকে এই বিষয়ে যেভাবে অনুমোদন দিয়েছেন, এভাবে সবকিছু হয় না।

এই সূত্র ধরেই রাজ্যপালকে তোপ দেগে কল্যাণ বলেন, “রাজ্যপাল সকাল থেকে সন্ধ্যা তৃণমূলের পিছনে লেগে রয়েছেন। তিনি একটা রক্তচোষা। তদন্ত হলে, রাজ্যপালের মোবাইল, ফোন এবং ওঁর আধিকারিকদের ফোন ঘাঁটলে বোঝা যাবে উনি কী ভাবে ওই ঘটনা সংগঠিত করেছেন। এখন রাজ্যপাল আরও বেশি প্রভাব খাটানোর চেষ্টায় নেমে পড়েছেন। পারবেন না। রাজ্যপালের এমন পদক্ষেপ অসাংবিধানিক তো বটেই অভূতপূর্বও বটে। তিনি ভারতীয় সংবিধানের কসাই”।

শুধু তাই-ই নয়, জনগণের উদ্দেশ্যে অনুরোধের সুরে কল্যাণের মন্তব্য, “সকলে থানায় থানায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে রাখুন। যে দিন উনি রাজ্যপাল থাকবেন না, সে দিন মামলা শুরু করা যাবে আবার। তখন আবার এই অভিযোগ দায়ের করে, রাজ্যপালকে এই প্রেসিডেন্সি জেলেই ঢোকানো যেতে পারে”।

আরও পড়ুন- যুবককে থাপ্পড় মারার জের, অপসারিত হলেন ডিসট্রিক্ট কালেক্টর! যুবকের পরিবারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী

তবে আবার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ভাস্কর ভট্টাচার্যের কথায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় তারা কেউই গুরুত্ব দিতে রাজী নন। তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সাংবিধানিকভাবে কোনও মামলা করা যায় না।

RELATED Articles