যুবককে থাপ্পড় মারার জের, অপসারিত হলেন ডিসট্রিক্ট কালেক্টর! যুবকের পরিবারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী

ক্রমেই বাড়ছিল সমালোচনার ঝড়। অভিযুক্ত নিজে ক্ষমাও চান। ঘটনার চরম নিন্দাও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। কমেনি বিতর্ক। এবার তাই সুরজপুরের কালেক্টর রণবীর শর্মাকে তড়িঘড়ি সরিয়ে দিলেন ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল।

এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল জানান, “সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে সুরজপুরের কালেক্টর রণবীর শর্মার দুর্ব্যবহারের ঘটনা আমার নজরে এসেছে। এটা অত্যন্ত দুঃথজনক এবং নিন্দাজনক ঘটনা। ছত্তিশগড়ে এরকম কাজ বরদাস্ত করা হবে না। অবিলম্বে ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছি”। তিনি আরও বলেন, “কোনও সরকারি আধিকারিকের প্রশাসনিক জীবনে এরকম কাজ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এই ঘটনায় হতাশ। যুবক এবং তাঁর পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইছি”।

https://twitter.com/bhupeshbaghel/status/1396327890640281603?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1396327890640281603%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fbangla.hindustantimes.com%2Fnation-and-world%2Fchattisgarh-cm-directs-removal-of-district-collector-ranbir-sharma-31621746637244.html

আরও পড়ুন- মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠালেন জে পি নাড্ডা, করোনায় অনাথদের দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে!

ঠিক কী হয়েছিল?

এই করোনা পরিস্থিতির জেরে লকডাউন চলছে ছত্রিশগড়েও। এর মধ্যে গত শনিবার একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, লকডাউনে বাইরে বেরোনোর অপরাধে এক যুবককে আটকেছেন সুরজপুরের কালেক্টর ও পুলিশকর্মীরা। এরপর তারা তাদের গাড়ির দিকে চলে যান। কিন্তু ফের ফিরে আসেন এবং ওই যুবকের থেকে তাঁর ফোন নিয়ে, তা আছড়ে দেন মাটিতে।

এমনকি, সেই যুবককে সপাটে থাপ্পড়ও মারেন ওই কালেক্টর। তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশকর্মীদেরও বলেন তারা যেন ওই যুবককে মারেন। উপরন্তু, যুবককে লাঠি দিয়ে কয়েকবার মারতেও দেখা যায় তাদের।

https://twitter.com/yoursdharm/status/1396146406017011712?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1396146406017011712%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fbangla.hindustantimes.com%2Fnation-and-world%2Fchattisgarh-cm-directs-removal-of-district-collector-ranbir-sharma-31621746637244.html

সেই ভিডিওই ভাইরাল হয় নেট দুনিয়ায়। এরপর থেকেই সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। দাবী করা হয় যে, ওই যুবক ওষুধ কিনতে বেরিয়েছিলেন, কাগজ দেখানো সত্ত্বেও তাঁকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। আবার অনেকের দাবী, ওই যুবকের বয়স মাত্র ১৩, তাঁকে থাপ্পড় মারা হয়েছে। এরপরই ওই ডিসট্রিক্ট কালেক্টরের অপসারণের দাবী ওঠে, এমনকি, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য ও দাবী ওঠে।

তবে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই ডিসট্রিক্ট কালেক্টর রণবীর শর্মা। তাঁর কথায়, “ওই যুবক টিকাকরণের জন্য বেরিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও উপযুক্ত কাগজপত্র ছিল না। পরে তিনি বলেন যে ঠাকুমার কাছে যাচ্ছেন। বাজে ব্যবহার করতে মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল, তারপর থাপ্পড় মেরেছি। ওঁর বয়স ২৩ বা ২৪, ১৩ নয়”।

আরও পড়ুন- কোথায় গেল তৃণমূলের “মা ক্যান্টিন?” উবে যাওয়ার হিসেব দিল সিপিএমের মুখপত্র

পরে অবশ্য় একটি বিবৃতি জারি করে দুঃখপ্রকাশ করেন রণবীর শর্মা। বলেন, “আমি আজকের ব্যবহারের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। ভিডিয়োর যুবককে অসম্মান বা ছোটো করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না আমার”।

RELATED Articles