কোনও অশান্তি যে ঘটবে তেমন আশঙ্কা তো ছিলই, কিন্তু এর মাত্রা যে এমন সীমায় পৌঁছবে, তা হয়ত ভাবা যায়নি। ওয়াকফ বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ধুন্ধুমার কাণ্ড। হাতাহাতি, মারামারিতে জড়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কাচের গ্লাস ভাঙার জেরে বেশ আহত হন তৃণমূল সাংসদ।
আজ, মঙ্গলবার ছিল যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠক। এই বৈঠকে রয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় উভয়েই। এদিনের এই বৈঠকেই তুলকালাম কাণ্ড। এই ওয়াকফ সংবিধান বিলের বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, এসপি, মিম-এর মতো সমস্ত বিরোধী দলগুলিই। বিরোধী দলের বক্তব্য, ওই বিল সংবিধান-বিরোধী।
তবে বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৮ আগস্ট লোকসভায় এই বিল পেশ করা হয় সংখ্যালঘু মন্ত্রকের তরফে। সেই সময় এই বিলকে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী ও অসাংবিধানিক বলে তকমা দেওয়া হয়। এমন নানান বিতর্কের জেরে এই বিলটি সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র।
সেই বিল নিয়েও আলোচনা ছিল এদিন অ্যানেক্স ভবনে। এই বিল নিয়ে বিরোধীদের দাবী, এই বিল মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা কেড়ে নেবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও আঘাত করবে এই বিল। এই বিলের ধারায় বলা রয়েছে, আগামী দিনে কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ হিসাবে ঘোষণা করার অধিকার ওয়াকফ বোর্ডের হাতে থাকবে না। জেলাশাসকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সেই ক্ষমতা।
বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলের জেরে জেলাশাসকের হাতেই সমস্ত ক্ষমতা চলে যাবে। এর ফলে ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যানের থেকেও শক্তিশালী হয়ে যাবে জেলাশাসক। ওয়াকফ বোর্ড সমস্ত গুরুত্ব হারাবে। এদিন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে, সংখ্যালঘু মন্ত্রকের তরফে ওয়াকফ বোর্ডকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে ব্যাখ্যা করা হয়। এর প্রতিবাদ জানান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ ধিক্কার! আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদী ব্যাজ পরে থাকার জের, মলে ঢুকতে বাধা, শহরের অভিজাত শপিং মলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মহিলা
সেই সময় এই নিয়ে তাঁর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দুই সাংসদের মধ্যে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। কাউকেই চুপ করানো সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে আচমকাই হাতাহাতিতে জড়ান কল্যাণ ও অভিজিৎ। মারামারিও হয় তাদের মধ্যে। এসবের মাঝেই আচমকাই টেবিলে মেরে একটি কাচের গ্লাস ভেঙে ফেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ভাঙা ক্লাচের গ্লাসের অংশই ঢুকে যায় তাঁর হাতে।

ফলে বেশ আহত হন তিনি। বৈঠক শেষে তাঁকে ধরে ধরে বাইরে আনা হয় বলে দেখা যায়। তাঁর হাতে দেখা ব্যান্ডেজ। বেশ ভালোই চোট পেয়েছেন তিনি, এমনটাই খবর। যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এমন ধুন্ধুমার ঘটনা ঘটায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর চর্চা।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার