Ssc scam : গোল্ড মেডেল পেয়েও চাকরি গেল! তিন মাস সময়, না পারলে অস্তিত্বই থাকবে না—চরম দুঃসময়ে কৃষ্ণ মৃত্তিকা নাথ

সকালবেলা উঠে ব্যাগ গোছানো, তারপর স্কুলে যাওয়া—এটাই ছিল ওঁর দৈনন্দিন রুটিন। হাসিমুখে স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে এক আশ্রয় ছিলেন তিনি। নিজের পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে সেই জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। অথচ আজ, সেই রুটিনটাই বদলে গেছে। আজ আর সকালটা ব্যস্ত নয়, বরং চিন্তায় ভরা। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এখন যেন সকাল-সন্ধ্যের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। তিন মাস—এই অল্প সময়ের মধ্যেই সব বদলে গেছে।

পরিচয়ের সংকটে এক যোদ্ধা তরুণী

যাঁর গলায় একদিন ঝুলেছিল গোল্ড মেডেল, যাঁকে ছাত্রছাত্রীরা ‘দিদিমণি’ বলে ডাকত, আজ তিনিই পরিচয় হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। সমাজের চোখে তিনি এখন আর সেই মেধাবী মেয়ে নন—একটি ‘বিতর্কিত নিয়োগের’ অংশ বলে চিহ্নিত। এমন বাস্তবতা কল্পনাও করেননি তিনি। চারপাশের ফিসফাস, আত্মীয়দের দূরত্ব, কিছু না বলেও অনেক কিছু বলা হয়ে যায়। আর ঠিক এইখানেই তৈরি হয় ভেতরের লড়াই—নিজেকে প্রমাণ করার, নিজের সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার।

নিয়োগের চিঠি থেকে বাতিলের চাপে

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম হয়ে যে সম্মান তিনি পেয়েছিলেন, সেটাই ছিল তাঁর জীবনের বড় প্রাপ্তি। সেই কৃতিত্বের ভিত্তিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরিও পান। নিয়মমাফিক ট্রেনিং, ক্লাস নেওয়া—সবকিছু চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু হঠাৎ একদিন খবর আসে, আদালতের নির্দেশে তাঁর চাকরিটিও বাতিল হতে চলেছে। সেই সঙ্গে জুড়ে যায় এক অবিচারের তকমা, যার জন্য তিনি কোনও ভাবেই দায়ী নন বলে বারবার দাবি করেছেন।

অবস্থা আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, মৃত্তিকার বাবা বর্তমানে এক চোখে দেখতে পান না। সেই অসুস্থ বাবার অনুপ্রেরণায় এতদূর পৌঁছেছিলেন মেয়ে। সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই তাঁর কাঁধে ছিল। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় পরিবারও এখন চরম সংকটে। এই অবস্থায় নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, আবার নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া—সবকিছু একা হাতে সামলাচ্ছেন মৃত্তিকা।

আরও পড়ুনঃ Ssc scam : SSC-র ‘ধোঁয়াশা’ নাকি ইচ্ছাকৃত চুপ? নিয়োগ নিয়ে মুখ খুলতেই বিতর্কে চেয়ারম্যান

কান্নায় ভেঙে পড়লেন কৃষ্ণ মৃত্তিকা নাথ, বললেন “১০ বছর ধরে যে পরিশ্রম করেছি, সেই সময়টা আর ফিরে পাব না। তিন মাসের মধ্যে নিজেকে কীভাবে তৈরি করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। যেন হঠাৎ অন্ধকারে পড়ে গিয়েছি। তবু চেষ্টা ছাড়ব না, লড়াই চালিয়ে যাব।” তাঁর কণ্ঠে হতাশা থাকলেও, চোখে এখনও একরাশ স্বপ্ন—আবার একদিন স্কুলে ফিরে দাঁড়ানোর।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর