উপনির্বাচনের আগেই দলের তরফে বিশেষ পুরস্কার পেলেন কুণাল ঘোষ, চুপিসারেই ঘটে গেল বড় ঘটনা, কী চলছে তৃণমূলে?

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের তরফেই বড় শাস্তি পেয়েছিলেন তিনি। রাতারাতি তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে। কিন্তু এবার সেই রাতারাতিই যেন ঘটে গেল এক বড় ঘটনা। উপনির্বাচনের আগেই দলের তরফে বড় এক পুরস্কার পেলেন কুণাল ঘোষ। যদিও সবটাই ঘটল সকলের অগোচরে, ঘটাহীনভাবে। কী এমন ঘটল তৃণমূলে?

তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ থেকেই নিজেই সরে এসেছিলেন কুণাল ঘোষ। তারপর আবার দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আসলে লোকসভা নির্বাচনের আগে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রকাশ্যে তৎকালীন সদ্য দলবদল করা তাপস রায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন তিনি। এর এর ‘শাস্তি’ হিসেবে রাতারাতি সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। তা নিয়ে বেশ ক্ষোভও জারি করেছিলেন কুণাল।  

সেই সময় এই বিষয়ে বিবৃতি জারি করে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছিল, ““সম্প্রতি কুণাল ঘোষ এমন অনেক কথা বলছিলেন যা দলের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। উনি যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ ভাবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত। এর সঙ্গে দলের ভাবনার কোনও সম্পর্ক নেই”।

যদিও তিনি নিজেই মুখপাত্রের পদ থেকে সরে এসেছিলেন, কিন্তু তাও নানান ইস্যু নিয়েই বারবার তাঁকে মুখ খুলতে শোনা গিয়েছে। ফলে মনেই করা হয়েছিল তাঁকে মুখপাত্রের পদে ফিরিয়ে এনেছে তৃণমূল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করা হয়নি। আর এবারও সেই একইভাবে চুপিসারেই ঘটে গেল এক ঘটনা।

উপনির্বাচনের আগে কমিশনের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। কমিশনে আবেদন জানান কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা ও জয়প্রকাশ মজুমদার। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে তাদের তরফে। আর সেই স্মারকলিপিতেই জেনারেল সেক্রেটারির জায়গায় দেখা গেল কুণাল ঘোষের সাক্ষর। অর্থাৎ তিনি যে সাধারণ সম্পাদকের পদ ফিরে পেয়েছেন, তা বেশ স্পষ্ট। তবে তাঁর শাস্তি যতটা ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল, তাঁর এই পুরস্কারের বিষয়টি কিন্তু তেমনভাবে ঘোষণা করা হয়নি। চুপিসারেই ঘটে গিয়েছে এই ঘটনা।  

আরও পড়ুনঃ হাইকোর্টে ঘাড়ধাক্কা খেলেন সন্দীপ ঘোষ, আর রেহাই নেই, এবার বড় বিপাকের মুখে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ!

প্রসঙ্গত, যখন কুণাল ঘোষকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেই সময় কুণাল বেশ ব্যাঙ্গাত্মক স্বরেই বলেছিলেন, ‘দলের তরফে প্রেমপত্র এসেছে’। তবে এবার পদ ফিরে পাওয়ার পর যদিও এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে শোনা যায়নি তৃণমূল নেতাকে।

RELATED Articles