ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তুলকালাম পরিস্থিতি বাঁশদ্রোনীতে, থানার ওসি-কে ঘিরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের, পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি, রণক্ষেত্র এলাকা

মহালয়ার সকালে বাঁশদ্রোনীতে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। জেসিবি পিষে দেয় এক কিশোরকে। মৃত্যু হয় সেই পড়ুয়ার, আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল পরিস্থিতি এলাকায়। সেখানে পুলিশ পৌঁছলে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ জনতা। ওসিকে ঘেরাও করে চলে বিক্ষোভ-ধ্বস্তাধস্তি।

আজ, মহালয়ার ভোরে কলকাতা পুরসভার ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত্যু হয় এক কিশোরের। জানা গিয়েছে, রাস্তা সারাইয়ের জন্য যে জেসিবি আনা হয়েছিল, সেই জেসিবি একটি গাছের সঙ্গে পিষে দেয় ওই ছাত্রকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় কিশোরের।

এই ঘটনার পর থেকেই বাঁশদ্রোনীর ওই এলাকায় প্রবল উত্তেজনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তার বেহাল অবস্থা। কাউন্সিলর কোনও পদক্ষেপ করেন না। আর এর ফলে মাশুল দিতে হল এক পড়ুয়াকে। কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন স্থানীয়রা। তাঁকে এলাকায় আসতেই হবে, দাবী তোলেন তারা।

ঘটনাস্থলে বাঁশদ্রোনী থানার পুলিশ পৌঁছলে পুলিশকে ঘিরে চলে বিক্ষোভ। এরপর ঘটনাস্থলে যায় পাটুলি থানার পুলিশ। দুই থানার ওসিকে ঘিরেই বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। পাটুলি থানার ওসিকে বেহাল রাস্তার জল-কাদার মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখেন তারা। পুলিশের জামা-প্যান্ট ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়। মারার হুমকিও দেয় স্থানীয়রা।

তাদের দাবী, এলাকার কাউন্সিলর অনিতা কর মজুমদারকে ঘটনাস্থলে আসতে হবে। তিনি এলাকায় না এলে পুলিশকে কোনও কাজ করতে দেবেন না তাঁর, এমনটাই দাবী তোলেন এলাকার মানুষজন। কিন্তু ঘটনার ৬ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরও ঘটনাস্থলে দেখা মেলেনি কাউন্সিলরের।

আর পড়ুনঃ দেবীপক্ষের সূচনাতেই ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মহালয়ার সকালে স্কুল পড়ুয়াকে পিষে দিল জেসিবি 

এদিকে ফোনে কাউন্সিলর জানান, “বিরাট এলাকা। এডিবির প্রজেক্টে প্রথমে নিকাশির কাজ হয়। রাস্তা তৈরির কাজ চলছিল। তাই সেখানে জেসিবি রাখা ছিল। খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা”। তাঁর দাবী, ওই রাস্তা সারাইয়ের কাজের দায়িত্ব ঠিকাদার সংস্থার হাতে ছিল, পুরসভা ওই কাজ করছিল না।   

আরও অন্যান্য খবর