বাংলায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ! নিষেধাজ্ঞা বহাল রইল অবাধ যাতায়াত সহ একাধিক বিষয়ে!

চলতি মাসের শেষদিন পর্যন্ত বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ! ৩১শে মে কেন্দ্রীয় সরকার যে ঘোষণা করেছিল, তাল মিলিয়েই আজ, সোমবার নবান্নে সেই এক‌ই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি আজ থেকে যে ‘আনলক ফেজ ১’ চালু হয়েছে সেই প্রক্রিয়াও অব‍্যাহত থাকবে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা বহাল র‌ইল অবাধ চলাচলে। জারি র‌ইল একগুচ্ছ বিধিনিষেধ।

গত সপ্তাহন্তে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন চলবে। কিন্তু সব বন্ধ থাকবে না। বরং এ বার ধীরে ধীরে তালা খুলবে। যাকে বলা হয়েছে, ‘আনলক ফেজ ১’। প্রথম ধাপে সেই তালা খোলার পর্বে ৮ জুন থেকে সমস্ত রেস্তোরাঁ, শপিংমল, ধর্মস্থান খোলা যাবে বলে জানানো হয়েছিল। সে মতোই আজ থেকে এ রাজ্যেও খুলে গেছে অনেক শপিং মল ও রেস্তরাঁ। সোমবার থেকে বিভিন্ন অফিসে ৭০ শতাংশ কর্মীদের নিয়ে কাজ‌ও শুরু হয়েছে রাজ্যে। কিন্তু অফিস-কাছারি পৌঁছাতে গিয়ে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে অনেককে, অভিযোগ বহু মানুষের‌ই। দেখা গেছে শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাসের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনের ছবি। একদিকে যখন আনলক ওয়ানে একের পর এক লকডাউন বিধি শিথিল হয়েছে, তখন দেশ জুড়ে করোনা সংক্রমণেরও নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। রাজ্যেও বেড়েছে করোনা-হানা।

এই প্রসঙ্গে আজ নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাতায়াত বেড়েছে, তাই সংক্রমণ বাড়ছে।’ রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্য রাজ্য থেকে মানুষ বাংলায় ফিরলেও, বাংলায় থাকা অন্য রাজ্যের শ্রমিকরা কিন্তু যেতে চাইছেন না। এটাই বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে সকলকে সাবধানে থাকার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘রাজ্যে ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন চলবে। মেনে চলতে হবে বেশ কিছু নিয়ম। যেমন, ধর্মীয় স্থান, বিয়ে বাড়িতে ২৫ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না।’

গণপরিবহণ ব্যবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্য সরকার ৫ হাজার বাস নামিয়েছে।’

তবে লকডাউন যে এখনও কড়া ভাবেই মানতে হবে তা‌ও স্পষ্ট করেছেন তিনি। যেমন আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা, সিনেমা হল, মেট্রো রেল, জিম, সুইমিং পুল, বিনোদন পার্ক, থিয়েটার, বার, অডিটোরিয়াম বন্ধ রাখতে হবে। কোনও বড় জমায়েতও করা যাবে না। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান এবং বিয়েবাড়িতে সর্বোচ্চ ২৫ জন পর্যন্ত জমায়েত করা যাবে। রাজ্যের কন্টেনমেন্ট জ়োনগুলিতে সবরকম কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

পাশাপাশি, রাজ্যের মধ্যে ও আন্তঃরাজ্য যাতায়াতে কোনও বিধিনিষেধ থাকছে না। মালপত্র থেকে মানুষ, যাতায়াতের জন্য কাউকে আলাদা করে কোনও অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

RELATED Articles

Leave a Comment