‘আপনারাও ব্লক করে দিন’, তৃণমূল কর্মীদের রাজ্যপালকে টুইটারে ব্লক করে দেওয়ার নিদান দিলেন মদন মিত্র

গতকালই খবর মেলেজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে টুইটারে ব্লক করে দিয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একথা নিজেই জানান তিনি। আর এরপর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজ্যপাল এদিকে ক্ষেপে আগুন। মুখ্যমন্ত্রীকে করা হোয়াটসঅ্যাপ  ফাঁস করে তিনি।

এই ঘটনায় ফের বেড়েছে নবান্ন-রাজভবন সংঘাত। এমন পরিস্থিতিতে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে নিদান দিলেন তারাও যাতে রাজ্যপালকে টুইটারে ব্লক করে দেন। শুধু তাই-ই নয়, রাজ্যপালকে সাদা হাতি বলেও কটাক্ষ শানিয়েছেন তিনি।

এদিন হুগলির আরামবাগের কৃষ্ণবাটিতে আদিবাসী কৃষ্টি–সংস্কৃতি মেলায় যোগ দেন কামারহাটির বিধায়ক। এই মেলার সভা থেকেই মদন বলেন, “একটু আগে জানতে পারলাম, রাজ্যপালকে ব্লক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা রাজনীতির ইতিহাসে কখনও হয়নি, তাই করে দেখালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাই আপনাদেরও বলছি, আপনারাও রাজ্যপালকে টুইটারে ব্লক করুন। সাদা হাতি পোষা বন্ধ করুন। ওই টাকায় কয়েক লক্ষ বেকার ছেলেমেয়ের চাকরি হতে পারে”।

কিন্তু রাজ্যপালকে কেন ব্লক করলেন মুখ্যমন্ত্রী?

এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যপাল প্রত্যেকদিন আমায় এবং আমার অফিসারদের টুইটের মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে গালমন্দ করে চলেছেন। উনি চান, নির্বাচিত হলেও আমাদের ক্রীতদাসের মতো ওঁর নির্দেশে চলতে হবে। মনোনীত ব্যক্তি হয়েও উনি এখন সুপার পাহারাদার হয়েছেন। ওঁর প্রশ্রয়ে বিজেপির কিছু গুন্ডা রোজ মানুষ মারছে। রাজভবন থেকেই তো পেগাসাস নজরদারি চলছে। তাই আমি ওঁর টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্লক করতে বাধ্য হয়েছি। এই জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ওঁকে সরানোর জন্য ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে ছ’বার চিঠি দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, কেন এখনও ওঁকে সরানো হল ন”।

এরপর ফের টুইট করেন জগদীপ ধনখড়। তা আবার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান তিনি। রাজ্যপাল লেখেন, “সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫৯–এ বলা আছে, সাংবিধানিক নিয়মনীতি এবং আইনের শাসনকে কেউ ব্লক করতে পারেন না। দায়িত্বপ্রাপ্তদের উচিত দেশের সংবিধানের প্রতি আস্থা রাখা”।

RELATED Articles