উচ্চমাধ্যমিকের পাঠক্রমে বিরাট বদল! বাংলায় পড়তে হবে শ্রীজাতর কবিতা, ইতিহাসে যুক্ত হল মুক্তিযুদ্ধ, কবে থেকে শুরু পরীক্ষা?

বদল আনা হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠক্রমে। ২০১৩ সালে শেষবার বদল আনা হয়েছিল উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যক্রম। তার পর ১১ বছরের মাথায় আবার বদল হচ্ছে পাঠক্রম। উচ্চমাধ্যমিকেও এবার সেমিস্টার পদ্ধতি। একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের এই পদ্ধতিতেই পরীক্ষা দিতে হবে বলে ঘোষণা করলেন সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। এবছর যে সব ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পাশ করবে, অর্থাৎ, যাদের পরীক্ষা দেওয়া ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে তারা সেমেস্টার প্রক্রিয়ায় উচ্চমাধ্যমিক দেবে। আগামী মে মাসে মাধ্যমিক পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশ হবে বলে জানা গিয়েছে। যে সব পড়ুয়ার প্রথম ভাষা বাংলা, তাদের তৃতীয় সিমেস্টারে কবি শ্রীজাতর লেখা ‘অন্ধকার লেখাগুচ্ছ’ পড়তে হবে।

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সাংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, “বাংলা ও ইংরেজির পাঠ্যক্রমে বড় বদল আনা হয়েছে। বেশি বদল দেখা যাবে বাংলার পাঠ্যক্রমে। তার পরই ইংরেজি। কবিতা এবং গল্পের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটা বাংলা বিষয়ের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য। অনেক নতুন কবিতা এবং গল্প এবার যোগ করা হয়েছে পাঠ্যক্রমে।”

মাধ্যমিক পাশ করে যারা উচ্চমাধ্যমিক দেবেন তাদের দুবছরে চারটি সেমিস্টারে পরীক্ষা হবে। একাদশ শ্রেণিতে দুটি সেমিস্টার পরীক্ষা হবে। উচ্চমাধ্যমিকের সেমিস্টার পরিচালনা করবে স্কুলই। দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে দুটি সেমিস্টার নেবে কাউন্সিল। জানা গিয়েছে, প্রথম ও তৃতীয় সেমিস্টার হবে নভেম্বর মাসে। দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমিস্টার হবে মার্চ মাসে। আগে উচ্চমাধ্যমিকে ৬০টি বিষয় ছিল, এবার বিষয় বেড়ে ৬২টি করা হয়েছে। এবার বিষয়ের মধ্যে থাকছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং সাইকোলজি। আগামী বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু ৩ মার্চ, ২০২৫, শেষ হবে ১৮ মার্চ, ২০২৫।

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সাংসদের সভাপতি এই বিষয়ে জানান, “ইতিহাস বিষয়েও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ১৮৫৭ সাল থেকে ভারতের ইতিহাস পড়তে হবে। সেটাই থাকছে পাঠ্যক্রমে। মহাত্মা গান্ধী, আজাদ হিন্দ ফৌজ থেকে স্বাধীনতার পরবর্তী ইতিহাস এবং তার সঙ্গে ১৯৭১ সালের মু্ক্তিযুদ্ধও পড়তে হবে পড়ুয়াদের। মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছিল, ভারতের ভূমিকা, বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন—সবই পড়তে হবে পড়ুয়াদের।”

এছাড়া সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “সব বিষয়ে একাধিক পরিবর্তন আনা হলেও, বিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে খুব বেশি পরিবর্তন করা হয়নি। বিজ্ঞানের পড়ুয়ারা বেশিরভাগই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দেবে এই ভেবে পাঠ্যক্রমে বিশেষ বদল করা হয়নি।”

আরও অন্যান্য খবর