ঈদের সকাল মানেই সম্প্রীতি আর প্রার্থনার আবহ। কলকাতার রেড রোডে যখন হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজে অংশ নিলেন, সেই মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)। অন্যদিকে একই সময়ে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পুজোর আয়োজন—দুটি ভিন্ন ধর্মীয় আবহ, কিন্তু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা যেন এক বড় বার্তা বহন করছে।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছে দেবীর আরাধনা করেন। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুজো দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। তাঁর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ঈদের দিন এই পুজো নিছক ধর্মীয় আচার নয়, বরং প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পুজো শেষ করেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে নামার কথা রয়েছে শুভেন্দুর। এলাকায় পুরনো বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে জনসংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি দিনশেষে তাঁর নন্দীগ্রামে ফেরার কথাও শোনা যাচ্ছে, যেখানে সমান্তরালভাবে চলছে তাঁর প্রচার কর্মসূচি। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে একসঙ্গে ফোকাস রেখে কৌশল সাজাচ্ছেন তিনি—এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এখন অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর বিজেপির মুখ শুভেন্দু অধিকারী। ফলে লড়াইটা সরাসরি দুই শীর্ষ নেতার মুখোমুখি সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যেই চক্রবেড়িয়া এলাকায় প্রচারের সময় শুভেন্দুকে ঘিরে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান ওঠে, পাল্টা স্লোগান দেন বিজেপি কর্মীরা। কিছুক্ষণের জন্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর থানায় গিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ #WeatherUpdate চৈত্রের শুরুতেই কালবৈশাখীর দাপট, লাগাতার ঝড়-বৃষ্টিতে তাপমাত্রা নামল ২০-র নিচে! রাজ্যের একাধিক জেলায় সতর্কতা, আগামী কয়েক দিন কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে?
অন্যদিকে, এই লড়াইকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভবানীপুরে তাঁর জয় নিশ্চিত এবং এই কেন্দ্র থেকেই রাজ্যজয়ের বার্তা যাবে। তবে একই দিনে রেড রোডে তাঁর নামাজে উপস্থিতি এবং কালীঘাটে শুভেন্দুর পুজো—এই দ্বৈত ছবি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। সব মিলিয়ে, উৎসবের দিন থেকেই ভবানীপুরে যে রাজনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা পেল, তা এখন স্পষ্ট।





