আজ থেকে শুরু হয়েছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। আর এই মোক্ষম সময়ে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে তাঁর বিদেশ সফরের জন্য এই সময়টাকে বেছে নেওয়া যে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক এবং রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ তা বলা বাহুল্য। আর এর প্রধান কারণ মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট। পশ্চিম বাংলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট টানতে আগ্রহী তৃণমূল-বিজেপি নির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক দলই। তবে এই কাজে বোধহয় মমতাকে মাত দিয়েছেন আজ মোদী। বাংলাদেশ সফরের নামে সোজা পৌঁছে গেছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রবক্তার জন্মস্থানে।
আরও পড়ুন – বিজেপির হয়ে মাঠে নামছেন মহারাজ? নতুন তথ্য জানালেন বিজেপি’র বর্ষীয়ান নেতা
ঠাকুরনগর, ওড়াকান্দি দু’জায়গার দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। দেশও আলাদা। কিন্তু বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে দাঁড়িয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তাতে পুরোপুরি রাজনৈতিক বার্তা খুঁজে পেলেন পর্যবেক্ষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ওড়াকান্দিতে দাঁড়িয়েই পশ্চিমবঙ্গ ভোটের একপ্রস্থ প্রচারও সেরে নিলেন প্রধানমন্ত্রী।
আর এখানেই আপত্তি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ আনলেন তৃণমূল নেত্রী। শনিবার খড়গপুরের সভা থেকে মমতার অভিযোগ, বাংলায় নির্বাচন চলাকালীন বাংলাদেশে গিয়ে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে কথা বলছেন মোদী। আর যা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রীর ভিসা-পাসপোর্ট বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এ নিয়ে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এদিন নির্দিষ্ট সময়ের আগে সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভার প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তিনি। বাংলায় নির্বাচন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মমতা। বললেন, “বাংলায় ভোট চলছে। আর বাংলাদেশে গিয়ে বাংলাকে নিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে নিয়ে কথা বলছেন। সেই সম্প্রদায়ের মানুষ ভোট দেবে। তাঁদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এটা নির্বাচনী বিধিভঙ্গ।”আর এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠে আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের অভিনেতা ফিরদৌসের প্রসঙ্গ তুলে এনে বলেন, “উনিশের লোকসভা নির্বাচনে আমাদের ব়্যালিতে এসেছিলেন ফিরদৌস। তখন বাংলাদেশ সরকারে সঙ্গে কথা বলে ফিরদৌসের ভিসা-পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছিল।” এর পরই তৃণমূল নেত্রীর প্রশ্ন, এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভিসা-পাসপোর্ট বাতিল হবে না কেন? মমতার আরও কটাক্ষ, “আপনি ট্রাম্পের হয়েও ভোটপ্রচার করতে গিয়েছিলেন। আপনার বেলা সব কিছুতে ছাড় কেনও?”