আজ, শুক্রবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ করেছে লোকসভা। এই খবর পেয়ে রীতিমতো ফুঁসে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, মহুয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থন করার কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি।
কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
আজ, শুক্রবার মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার পর কার্শিয়াংয়ে বসেই সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “ভারতীয় সংসদের জন্য এটা খুব দুঃখের দিন। মহুয়া মানুষের ভোটে নির্বাচিত। বিজেপি তাঁকে ভোটে পরাজিত করতে না পেরে, আত্মপক্ষ সমর্থনের না দিয়ে, ৪৯৫ পাতার রিপোর্ট পাঠিয়ে আধ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিল। বারবার ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা বলেছেন, রিপোর্ট পড়ার সুযোগ দিন। তাও দেওয়া হয়নি”।
এদিন বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “যেভাবে মহুয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনের বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে বহিষ্কার করা হল, তাতে স্পষ্ট যে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লড়তে পারে না। তাই প্রতিহিংসার রাজনীতির আশ্রয় নিল। আমি এর তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। মহুয়ার মতো তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ! আমি বলছি, মহুয়া প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। দল ওর পাশে ছিল, আছে, থাকবে”।
ফের কী মহুয়াকে প্রার্থী করবে তৃণমূল?
এর জবাবে মমতা বলেন, “না হওয়ার তো কোনও কারণ এখনও পর্যন্ত দেখছি না। আর ওকে তো কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার প্রেসিডেন্টও করা হয়েছে। তাছাড়া দল তো ওর পাশেই দাঁড়িয়েছে। যা হয়েছে তা তো ধ্বনি ভোটে হয়েছে। হাত তুলে ভোট, কোনও সুযোগ না দিয়ে। পাস, পাস, পাস হয়ে গেল। এটাও রেকর্ড থাকবে। ওরা তো গণতন্ত্রের বাইপাস সার্জারি করে দিল”।
প্রসঙ্গত, ঘুষ নিয়ে সংসদে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে তাঁকে জেরা করেছিল লোকসভার এথিক্স কমিটি। এথিক্স কমিটির রিপোর্টে মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ করা হয়। আজ, শুক্রবার সেই রিপোর্ট পেশ হয়। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। এদিন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এথিক্স কমিটির এই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন। এরপরই সংসদে ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে খারিজ করা হয় মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ।






