করোনা, ত্রাণ দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে যথেষ্ঠই অস্বস্তিতে রয়েছে শাসকদল। আর সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ গতিতে উঠে আসা প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি তো রয়েইছে। আর তাই একুশের চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের কাছে বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে। লোকসভার ধাক্কা সামলে বিধানসভা জিততেই হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে। আর তাই তৃণমূলের প্রধান ভরসা পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোর।
কোনওরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার নয় এবার সোজা পিকের রিপোর্ট কার্ডের উপর ভিত্তি করেই বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী স্থির করতে চাইছে তৃণমূল। আর তাই বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে প্রার্থী নির্বাচনে তাই বেশ কিছু মানদণ্ড খাঁড়া করা হয়েছে।
২০১৯-এ নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের দায়িত্ব নেওয়ার পরই জনসংযোগে জোর দিয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট বিতরণে এবার প্রধান নীতি নির্ধারক হয়ে উঠবেন তিনিই। তাঁর রিপোর্ট কার্ডের উপর নির্ভর করছে অনেকের ভাগ্য। তাঁর রিপোর্ট কার্ডের উপর ভিত্তি করেই মমতা চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবেন। দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, পিকের টিম রিপোর্ট তৈরি করছে, কতকগুলি নির্ধারিত কারণের উপর ভিত্তি করে। বর্তমান বিধায়ক বা প্রস্তাবিত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, বিগত পাঁচ বছরে তাঁর কার্যকারিতা, দলীয় কর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় ইউনিটের মধ্যে সবাইকে মানিয় চলার ক্ষমতা এবং সর্বোপরি বিশুদ্ধ ভাবমূর্তি- এই কারণগুলির উপরই রিপোর্ট কার্ড সাজাচ্ছেন প্রশান্ত।
এবার উপযুক্ত মানদণ্ড, যথাযথ মানদণ্ড বিচার করেই তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট দেওয়া হবে। আগামী নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই করতে তাই আই-প্যাকের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর দল বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে গ্রাউন্ড লেভেল থেকে ইনপুট সরবরাহ করবে। জনগণের মধ্যে প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, দলের পদমর্যাদা, প্রোফাইল সম্পর্কে অনুসন্ধান করবে।
সম্প্রতি একটি সমীক্ষাও চালানো হচ্ছে। টিকিট বিতরণ করার সময় প্রশান্ত কিশোরের ইনপুটকে দলীয় নেতৃত্ব গুরুত্ব দেবে। এবং দলের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোট কথা এবার একেবারে মেপে পা ফেলতে চাইছে তৃণমূল। সামান্য কোনওরকম ভুলভ্রান্তিও এবার বুমেরাং হতে পারে।





