‘দোষীদের ফাঁসি দেওয়া হবে, সিবিআই তদন্ত বা অন্য কোনও তদন্তে কোনও আপত্তি নেই’, আর জি করে মহিলা চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী

Mamata Banerjee Reacted to Lady Doctor Death Incident in R G Kar: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা রাজ্যে তোলপাড়। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার এই ঘটনা নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Reacted to Lady Doctor Death Incident in R G Kar)

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক এবং চরম ঘৃণ্য। এটা আমার কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের ক্ষোভ ও দাবি ন্যায্য। আমি তাঁদের প্রতিবাদ সমর্থন করি। পুলিশও তাঁদের দাবি মেনে নিয়েছে। ইতিমধ্যে একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত করছি, যে প্রতিবাদকারী চিকিৎসকদের যেন কোনও ধরনের সমস্যা না হয়”।

মমতার কথায়, “আমি মামলাটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যদিও আমি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নই, তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজনে অভিযুক্তদের ফাঁসি দেওয়া হবে। তাদের কঠোরতম শাস্তি পাওয়া উচিত”।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি হাসপাতালের সুপারেরও দায়িত্ব আছে। কোনও দিক থেকে তাঁর গাফিলতি আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখব আমরা”।

আর জি করের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবী তুলেছিলেন বিরোধীরা। এবার সেই দাবী মেনে নিয়ে মমতা এদিন বলেন, “সিবিআই তদন্ত হোক বা যে কোনও তদন্ত হোক, আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কারণ রাজ্য সরকারের কিছু লুকোনোর নেই। আমি স্পষ্টভাবে বলছি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে”।

শহরের সরকারি হাসপাতালে এমন ঘটনায় গোটা রাজ্যে ছড়িয়েছে শোরগোল। আর জি করের চিকিৎসকরা তো বটেই শহরের নানান সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। তীব্র ক্ষোভ জারি করা হয়েছে চিকিৎসক মহলের তরফে। তবে বিক্ষোভকারী চিকিৎসকদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, তারা যেমন বিক্ষোভ, মিছিল করতে চান, তারা করতে পারেন, কিন্তু চিকিৎসায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে। জরুরি বিভাগ চালু রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বলে রাখি, তরুণী চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আসে নি বটে। তবে সূত্রের খবর, রিপোর্টে ধর্ষণের ইঙ্গিত মিলেছে। চিকিৎসক সংগঠনগুলির দাবী, দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তায় ঘাটতি ছিল। সমস্ত দিক খতিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর দোষীরা ধরে পড়ে কী না, বা তাদের কতটা শাস্তি হয়, এখন সেটাই দেখার!

RELATED Articles