শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন বাড়িতেই ছিলেন তিনি। বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা হয়েছে তাঁর। এর জেরে দীর্ঘদিন নবান্নে যেতে পারেন নি। স্পেন সফরে গিয়ে পায়ে চোট লাগায় বাড়িতে চিকিৎসা চলছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে বাড়ি থেকেই প্রশাসনিক কাজ করছিলেন তিনি। তবুও তাঁর নবান্নে না যাওয়া নিয়ে বেশ প্রশ্ন ওঠে। এবার দীর্ঘদিন পর নবান্নে উপস্থিত হয়ে এই জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
গতকাল, বুধবার সাংবাদিক বৈঠকের সময় মমতা জানান, তিনি নবান্নে না আসলেও কোনও ফাইল পেন্ডিং নেই। তিনি বলেন, “একটা কাজও বাকি নেই। নবান্নে আসিনি, নবান্নের ছোট ঘরে থেকেছি। তাতে কী যায় আসে! কে ক’টা দিন অফিসে যায়! বড় বড় কথা… আমাকে আসতে হবে, আমি কি টাকা নিই নাকি! মাইনে নিই নাকি! বিনা পয়সায় ভলান্টিয়ারি সার্ভিস দিই। আমি সরকারি কর্মচারী ভাই-বোনদের মতোই অফিস করি”।
এরপরই মমতা বলেন, “দেখুন তো ভারতের ক’জন মুখ্যমন্ত্রী অফিসে যান? বাড়ি থেকে কাজ করেন কত জন? বাড়িটাই তাঁরা অফিস বানিয়ে নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে থাকেন, সেটাই মুখ্যমন্ত্রীর দফতর হয়”।
কেন নবান্নে উপস্থিত থাকতে পারেন নি মুখ্যমন্ত্রী?
রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে স্পেন সফরে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই পায়ে চোট পেয়েছিলেন তিনি। তার আগে উত্তরবঙ্গে হেলিকপ্টার বিভ্রাটের সময়ও পায়ে চোট লেগেছিল তাঁর। সেই একই জায়গায় ফের পা হড়কে গিয়ে চোট লাগে স্পেন সফরে। সেই নিয়েই টানা বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর কলকাতায় ফিরে সোজা তিনি গিয়েছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালে।
সেই সময় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথাও বলেছিলেন কিন্তু তিনি রাজি হন নি। বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন মমতা। সেই অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা হচ্ছিল তাঁর। সেই কারণেই দীর্ঘদিন নবান্নে যেতে পারেন নি মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মমতা এও অভিযোগ করেন যে তাঁর ভুল চিকিৎসা হয়েছিল। তিনি বলেন, ““ভুল চিকিৎসার জন্য সেপটিকের মতো হয়ে গিয়েছিল। যেভাবে স্যালাইন দেওয়া হয়, সাতদিন সেভাবে চ্যানেল করা ছিল। বিছানা থেকে উঠতে পারিনি”। তবে নির্দিষ্ট কোনও হাসপাতাল বা চিকিৎসকের নাম করেন নি তিনি।





