গতকাল যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হল অযোধ্যা মন্দিরের রামলালার, সেই সময় বাংলায় চলছিল সংহতি যাত্রা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এদিন সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে এই যাত্রা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন এই যাত্রার শেষে ইন্ডিয়া জোটের শরিক হিসেবে আক্ষেপের সুর শোনা গেল মমতার গলায়। বললেন, “ইন্ডিয়ার নাম আমরা দিয়েছি। কিন্তু আমাদের এটা বলতে খুব দুঃখ হচ্ছে, আমরা যখন বৈঠকে যাই, দেখি সিপিএম বৈঠককে কন্ট্রোল করে”।
বাংলায় দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম আমলের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম জমানায় বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে তাঁর লড়াইয়ের কথা সকলেরই জানা। মাঠে-ময়দানে নেমে লড়াই করার মানুষ তিনি। সিপিএমের দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকে পিষে নিজের সরকার তৈরি করার যাত্রাপথটা মোটেই সহজ ছিল না। সেই সিপিএমই এখন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক কন্ট্রোল করছে, তা যেন কাঁটা বেঁধার মতো মমতার কাছে।
কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এদিন সংহতি যাত্রার শেষে সভামঞ্চ থেকে মমতা বলেন, “যাদের সঙ্গে আমরা জীবনের ৩৪ বছর ধরে লড়াই করেছি, তাদের কোনও পরামর্শ আমরা শুনব না। আমাদের অনেক অসম্মান করা হয়। কিন্তু তাও, আমরা বলেছিলাম, যে আঞ্চলিক দল যেখানে শক্তিশালী, সেই জায়গাটা তাঁদের উপর ছেড়ে দেওয়া হোক”।
এদিন নাম না করে কংগ্রেসের উদ্দেশেও তিনি বলেন, “৩০০ আসনে আপনারা (কংগ্রেস) এককভাবে লড়ুন, আমরা সাহায্য করে দেব। আমরা তোমাদের কোনও আসনে লড়ব না”।
তৃণমূল নেত্রী সংযোজন, “ওরা বলছে, ওদের যা ইচ্ছে হবে, ওরা তাই করবে। একটা কথা মনে রাখবেন, বিজেপিকে সাহায্য করা যাবে না। বিজেপিকে কেউ সাহায্য করলে, আপনাদের কেউ ক্ষমা করবে না। আমি তো ক্ষমা করবই না। আমাদের কাছে লড়াইয়ের সাহস আছে, কিন্তু আমাদের লড়াই করতে দেওয়া হয় না”।
নিজের লড়াইয়ের সাহসের কথা বোঝাতে গিয়ে সংহতি যাত্রার প্রসঙ্গও তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমাদের সাহস আছে। আজ তো আমরা মিছিল করলাম। সাহস দেখলাম। এতগুলো রাজনৈতিক দল আছে। কে কী সাহস দেখাল? আমরা তো মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বার… সব ধর্মীয় স্থানে গিয়েছি। আমরা চাই হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান, সবাই একসঙ্গে ভাইয়ে-ভাইয়ে মিলেমিশে থাকুক”।





