রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বনাম রাজ্যপাল সংঘাত ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এবার নাম না করে রাজ্যপালকে নজিরবিহীন আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, “রাজ্যের কাজে যথেষ্ট স্বচ্ছতা বজায় আছে তবু কিছু লোক ঘেউ ঘেউ করেই যাচ্ছে।” ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এই মন্তব্য করে তিনি রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কেই খোঁচা দিলেন।
আজ নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে নাম না করে রাজ্যপালকে তীব্র কটাক্ষবাণে বিদ্ধ করেন মমতা। তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তিনি বলেছেন ”প্রশাসনিক কাজকর্ম যথেষ্ট স্বচ্ছতার সঙ্গে হচ্ছে, তা সত্ত্বে কিছু কিছু লোক ঘেউঘেউ করছে।”
এদিকে কিছুদিন আগেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় করোনার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা নিয়ে রাজ্য সরকার কাটমানি খায় বলে অভিযোগ জানিয়ে টুইট করেছিলেন। সেই সময় তৃণমূলের তরফ থেকে গোটা ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। কঠিন সময়ে একসঙ্গে কাজ না করে এ ধরনের মন্তব্য কাজের পরিবেশকে উলটে বিঘ্নিত করছে বলে পালটা টুইটে লিখেছিল নবান্ন। এছাড়াও সম্প্রতি বাম পরিষদীয় দলনেতা ডক্টর সুজন চক্রবর্তীও এই সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।
সেই প্রসঙ্গ ধরেই এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এবার সরাসরি বললেন, ”আমরা কোথা থেকে মাস্ক কিনছি, তার হিসাব চাওয়া হচ্ছে। আমরা বলব না। কেন বলব? এমন কিছু কিট বাজারে আছে সেগুলো ভুয়ো। ICMR সেকথা মেনেও নিয়েছে। তাদের কেন প্রশ্ন করা হচ্ছে না?”
যদিও ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের বক্তব্য রাজ্যপাল যেভাবে কাটমানি প্রসঙ্গ তুলে ছিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবাব যথাযথ কিন্তু সকলেই একটি কথা বলছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা সংযত রাখা উচিত ছিল।
এর আগেও যখন সরকারি কর্মচারীরা ডিএ বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছিলেন তখন তাদের উদ্দেশ্যে এই ঘেউ ঘেউ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন মমতা। ফের আরেকবার সেই শব্দ রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান এর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।





