তিনি বরাবরই স্পষ্ট ভাষাতেই কথা বলেন বটে। তবে এবার তাঁর নানান মন্তব্যে কোথাও যেন বেশ আক্ষেপের সুরও শোনা গেল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বেশ বিস্ফোরক হয়েই বললেন, “সমাজসেবা করার জন্য রাজনীতিতে এসেছি। এরকম নোংরা রাজনীতি দেখলে আগেই রাজনীতি (politics) ছেড়ে দিতাম। এরকম নিকৃষ্ট জানলে রাজনীতিতে আসতাম না। ভাবেন স্বার্থের জন্য বসে থাকি? আগেও পদ ছেড়ে দিয়েছি। আমি তো চিরকাল বাঁচব না”।
মমতার দাবী, “আমরা কারোর খাইও না, পরিও না। আমি একটা মশাও মারতে ভয় পাই। ডেড বডির ছবি দেখতেও ভয় পাই। হাইকোর্টে আমাদের চোর ডাকাত না বলে… ববি তো এখন মেয়র হয়েছে, জল জমলে হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে থাকে। বিকাশবাবুদের বলছি আপনাদের আমলে কীভাবে বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া হত”।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও সংযোজন,“লেবু কচলাতে কচলাতে কিন্তু তেঁতো হয়। আমার পরিবারকে নোটিশ করলে আমি আইনত লড়ব। কিন্তু এখানেও বিজেপি নাক গলাচ্ছে। তবে আইনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। আমি দিল্লি গিয়েছিলাম প্রাপ্য চাইতে। সেটিং করতে যাইনি”।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় এসএসসি দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়ার পর মমতার দিল্লি সফরকে ঘিরে নানান বিতর্ক হয়। বিরোধীদের দাবী ছিল যে তিনি নাকি সেটিং করার জন্য দিল্লি গিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে মমতার দাবী, “আমাকে সেটিং করার জন্য অনেকে বসে থাকেন। আমি সেটিং করতে পারিনি বলেই তো মাথা থেকে পা, চোখ থেকে ব্রেন এমন কোনও জায়গা নেই যে মারেনি”।
মমতার পরিবারের অস্বাভাবিক সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। এই নিয়ে আগেও মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। এবার তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাদের পরিবারের সব হিসেব চাইছেন। আমরা সব হিসেব তো দিই। যাদের রঙ কয়লা তারাই বেশি কয়লা কয়লা করে। কেন সামলাতে পারেন না। সিআইএসএফ, বিএসএফ তো দায়িত্বে। বিচার ব্যবস্থাই শেষ জায়গা। সেটা বিশ্বাস করি বলেই আজও বলি সেই জায়গাটা যেন ফুরিয়ে না যায়”।
মমতার কথায়, “আমি একটু আউটস্পোকেন। আমি চিফ সেক্রেটারিকে দায়িত্ব দিয়েছি কেন চ্যানেলে দেখালেন আমার স্থাবর, অস্থাবর নাকি গভর্নমেন্টের জায়গায় বসে আছে! যদি আপনারা তদন্ত করে দেখেন আমরা কোনও জমি সরকারের থেকে নিয়েছি তবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিন। অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই”।






