সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এমন আবহে এবার শুরু হয়ে গিয়েছে দলবদলের খেলা। এবার ভোটের আগে জমি শক্ত হল বিজেপির। তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে ফিরে এলেন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়। কলকাতায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে ফের বিজেপির পতাকা তুলে নিলেন তিনি।
যোগদান প্রসঙ্গে কী বক্তব্য শুভেন্দুর?
এদিন সৌমেন রায়ের যোগদান প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া কাউকে সহজে ঘর ওয়াপসি করানো হয় না। কিন্তু ভাই সৌমেনের ক্ষেত্রে সেটা করা হল। কারণ, ও আমাদের দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, আদর্শের বিরুদ্ধে নিজে থেকে কোনও কুমন্তব্য করেননি। পঞ্চায়েতের সময় ওঁকে দিয়ে আমাদের বিপক্ষে কিছুটা বলানো হয়েছে। ওই কাজগুলো তিনি করেননি, বরং করানো হয়েছে”।
কালিয়াগঞ্জের বিধায়ককে ফের দলে ফেরানোর নেপথ্যে রয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার বিধায়ক অনন্ত মহারাজ। শুভেন্দু একথা জানিয়ে বলেন, “রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি অন্তত মহারাজের সুপরামর্শে সৌমেন বিজেপিতে যোগ দিলেন। ও আগেও জানিয়েছে, ও এবং ওর পরিবার বিজেপি ছাড়া কিছু বোঝে না”।
কী বক্তব্য তৃণমূলের?
কালিয়াগঞ্জের বিধায়কের এই ঘর ওয়াপসি যদিও ভালো চোখে নেয়নি তৃণমূল। এই ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুরের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, “গদ্দার গেল কি এল তাতে দলের কিছু যায় আসে না। এতে আমাদের দল আরও শক্তিশালী হল”।
বলে রাখি, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল করতেন এই সৌমেন রায়। মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। একুশের নির্বাচনের আগে ২০২০ সালে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। বিজেপির টিকিটে জিতে বিধায়কও হন তিনি। তবে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছিল। বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হয় তাঁকে নিয়ে।
এরপর ২০২১ সালে তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। সৌমেন রায়ের কথায়, তাঁকে ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকি, তিনি এও জানান, তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে যে মন্তব্য করেছিলেন, তাও তিনি নিজের থেকে করেন নি। তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছিল। তৃণমূলে ফিরেও সেভাবে গুরুত্ব পান নি তিনি। সেই কারণে এবার বিজেপিতেই ফিরে এলেন বিধায়ক।





