কথায় রয়েছে, ‘কুসন্তান যদিও হয়, কুমাতা কখনও নয়’। মা এমন এক মানুষ যে নিজের সন্তানের জন্য হাসতে হাসতে নিজের প্রাণও দিয়ে দিতে পারেন। এক মায়ের কাছে তাঁর সন্তানের মূল্য ঠিক কতখানি, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। কিন্তু সেই মা-ই যদি নিজের সন্তানকে টাকার জন্য বিক্রি করে দেন, তাহলে?
এমনই এক ঘটনা ঘটল এই রাজ্যে। ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিজের সদ্যোজাত সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন মহিলা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হন ওই মহিলা। এরপর লোকলজ্জার ভয়ে নিজের কোলের সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রানাভুতিয়ায়। সেখানকার বাসিন্দা শুক্লা দাস। জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে মৃত্যু হয় মহিলার স্বামীর। সম্প্রতি এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ওই মহিলা।
স্থানীয়দের দাবী, এরপরই সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন তিনি। সেকথা জানতে পারেন প্রতিবেশী শান্তি মণ্ডল ও তাঁর স্বামী তাপস মণ্ডল। আয়ার কাজ করেন শান্তিদেবী। সেই সূত্রে অনেকের সঙ্গেই পরিচয় রয়েছে তার। তিনিই শুক্লাদেবীর সঙ্গে পঞ্চাসায়র থানা এলাকার বাসিন্দা ঝুমা মাঝির পরিচয় করিয়ে দেন।
জানা গিয়েছে, ঝুমা মাঝি নিঃসন্তান। শুক্লা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ২ লক্ষ টাকা দিয়ে সেই সদ্যোজাত সন্তানকে কিনে নেন ঝুমা। জমি বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করেছিলেন ঝুমা, এমনটাই জানা গিয়েছে। একথা জানাজানি হতেই শুক্লার এক প্রতিবেশী নরেন্দ্রপুর থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এরপরই এই ঘটনায় সদ্যোজাতের মা শুক্লা দাস, মধ্যস্থতাকারী শান্তি, তাঁর স্বামী তাপস ও যিনি সন্তান কিনেছিলেন সেই ঝুমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩১৭, ৩৭০, ৩৭২, ১২০বি ধারায় মামলা রুজু করেছে। ধৃত শান্তি ও তার স্বামী শিশু বিক্রি চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অনুমান পুলিশের। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।





