আমফানের পরে আপৎকালীন কাজের জন্য নিজের প্রাণটা অকালে হারালেন এক ২৭ বছরের যুবক।
গতকাল বিদ্যুতের আঘাতে প্রাণ হারান দমকলকর্মী সুকান্ত সিংহ রায়। তার বাড়ি তারকেশ্বর থানার সন্তোষপুর এলাকায়। ছেলের মৃত্যুতে এখন শুধুই শোকের ছায়া পরিবারে। এক তরতাজা প্রাণ অকালেই চলে গেল। যুবকের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
বুধবার বেলুড়ে জিটি রোডের ওপর একটি বিশালাকার গাছ কাটতে যান সুকান্ত। গাছের সাথে জড়িত তারে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন হয়েছে, তা CESC-এর কাছে নিশ্চিত হয়েই, গাছ কাটতে শুরু করেন দমকলকর্মীরা। হঠাৎই করাতটি তারের গায়ে গিয়ে লাগলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হন তিনি এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পরই ডিজি নির্দেশে বেলুর থানায় CESC কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। অভিযোগ CESC কর্মীদের গাফিলতির জন্যই মৃত্যু হয়েছে ওই কর্মীর। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে CESC কর্মী শান্তনু মাহাতো, মোহাম্মদ কমল আখতার এবং রাজ নারায়ন রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
তাঁদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলাও রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের আজ হাওড়া আদালতে তোলা হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ জনকেই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের আদেশ দেন। পাশাপাশি আগামিকাল এই মামলার কেস ডায়েরি আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিসকে।
মৃত দমকলকর্মীর বাবা সুশান্ত সিংহ রায় বলেন, “বিদ্যুৎ দফতরের গাফিলতির ফলেই এই দুর্ঘটনা। ওদের দোষের জন্য আমি আমার সন্তানকে হারালাম, এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। যেন আগামি দিন এই ঘটনা না ঘটে।” এই ঘটনায় গতকালই শোকজ্ঞাপন করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীও এবং সুকান্তের পরিবার ও বন্ধুবর্গের প্রতিও সমবেদনাও জানান। যুবকের পরিবার থেকে প্রতিবেশি সকলেই এখন সুকান্তের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ।





