২০১৯ সালের কৌশলকেই ফের কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েই প্রার্থী তালিকা ভরাট করতে চাইছে বিজেপি। যদিও বিজেপির ঘোষণা করা দু’দফার প্রার্থী তালিকায় সেভাবে তৃণমূলত্যাগীদের জায়গা দেয়নি গেরুয়া শিবির। কিন্তু বিদায়ী তৃণমূলের বিধায়করা যেভাবে একের পর এক দল ছাড়তে শুরু করেছে, তাতে প্রার্থী তালিকায় অন্য ছবিই দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল ভাঙাতে বরাবরই সিদ্ধহস্ত ছিলেন মুকুল রায়। মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার পরই তাঁর অনুগামীরাও একে একে গেরুয়া শিবিরে ভিড় জমিয়েছে। এরই মধ্যে ২০১৯-এ তৃণমূলের একপ্রকার ধস নামায় মুকুল। তৃণমূল ভাঙিয়েই সাংসদ বানিয়েছিলেন তিনি। এবার বিধানসভা নির্বাচনেও সেই একই পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন- ভাঙন অব্যাহত! নিঃশর্তে বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের প্রভাবশালী ৫ বিধায়ক
তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়করা একে একে মনক্ষুণ্ণ হয়ে যাচ্ছেন বিজেপিতে। নির্বাচনের টিকিট না পেয়েই মুকুলের বাড়িতে ভিড় জমান তারা। ইচ্ছাপ্রকাশ করেন গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার। সে অনুযায়ী আজ বিজেপির হেস্টিংসের কার্যালয়ে তৃণমূলের ৫ বিধায়ক সোনালী গুহ, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, শীতল সর্দার, দীপেন্দু বিশ্বাস ও জটু লাহিড়ী যোগ দেন বিজেপিতে। শুধু এঁরাই নন, মালদহ জেলা পরিষদের ১৪ জন সদস্য, এমনকি এক টিকিট পাওয়া প্রার্থীও যোগ দিয়েছেন গেরুয়া দলে।
একুশের নির্বাচনের আগেই যেভাবে মেগা যোগদান চলছে, তাতে তৃণমূল ভাঙিয়ে আতঙ্ক তৈরি করার পাশাপাশি বিজেপি বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে জোরদার প্রার্থী খুঁজে নিতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের নিয়ে সাফল্য পেতে উদ্যোগী বিজেপি।
আরও পড়ুন- মমতার থেকে মুখ ফেরাল শিবসেনা-বিজেডি-সমাজবাদী পার্টি, পাশে নেই ‘বন্ধু’ দল, দিল্লির বুকে অন্য সুর
তৃণমূলের এই ভাঙনের পেছনে যে মুকুল রায়ের অবদান রয়েছে বেশ অনেকটা, তা বলাই বাহুল্য। মুকুলের হাত ধরে এর আগেও বিজেপিতে ভিড় জমিয়েছে মুকুল অনুগামীরা। এমনকি, শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার পর তাঁর হাত ধরেও বেশ কিছু নেতা-কর্মী বিজেপিতে এসেছেন। এভাবেই ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে ঘাসফুল শিবির।





