গত রবিবার প্রয়াত হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মা শিবানীদেবী। শোকপ্রকাশ করতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় থেকে শুরু কপরে শোভন-বৈশাখীও। তাহলে তাঁর যেতে তো কোনও বাধা নেই। আর এখন তো তিনি তাঁর নিজের দলেরই লোক। হ্যাঁ, কথা হচ্ছে মুকূল রায়কে নিয়েই।
রবিবার না গেলেও, আজ, মঙ্গলবার দুপুরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে হাজির হলেন মুকুল রায়। এই শোকের সময় পুরনো ‘বন্ধু’কে সমবেদনা জানাতেই পৌঁছন মুকুল রায়। বাড়িতে প্রবেশব করে শিবানীদেবীর ছবিতে মাল্যদান করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন মুকুল রায়।
আরও পড়ুন- শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যপাল, তবে কী রাজ্যে চালু হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন?
মুকুল রায় যখন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন, সেই সময় তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে কুমড়ো পটাশ, বাঁটুল ফি গ্রেট বলে নানান আক্রমণ করেন। পাল্টা আবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও মুকুল রায়কে কাঁচড়াপাড়ার কাঁচা ছেলে, কাঁচড়াবাবু বলে নানানভাবে তোপ দাগেন। কিন্তু সেসব এখন অতীত। এখন তারা একই দলের সৈনিক।
রবিবারই অভিষেক ও ফিরহাদদের পাশাপাশি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি পৌঁছে যান বিরোধী দলের নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও যান শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও।
প্রসঙ্গত, সাড়ে তিন বছর বিজেপির সঙ্গে যাত্রা করার পর গত শুক্রবার ফের তৃণমূলে ফেরেন মুকুল রায়। বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু করার পর মঙ্গলবার পৌঁছন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে।
আরও পড়ুন- আগামী পাঁচ বছর তৃণমূলের সঙ্গেই থাকছে আইপ্যাক, তবে প্রশান্ত কিশোর কী থাকবেন? উঠছে প্রশ্ন
আসলে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এই মুহূর্তে এত জননেতার সমাগম শুধুমাত্র যে সমবেদনার জন্যই, তা অনেকেই মনে করছেন না। এর মধ্যে এক গভীর তাৎপর্য রয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের অভিজ্ঞ নেতা। এই কারণেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাজীব, শোভন ও বৈশাখীর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমীকরণে সুবিধা করতে পারে। কিন্তু মুকুলের সেই ব্যাপার নেই। তবে পুরনো সম্পর্ক সহজ করাই তাঁর লক্ষ্য।





