মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের প্যান্ডেলে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, প্রবল বিতর্কে পুরসভার কর্মী, তাহলে কী ফের ত্রাণ বণ্টনে দুর্নীতি?

তিনি পেশায় পুরসভার কর্মী। কিছুদিন আগেই মায়ের মৃত্যু হয়েছে। নিয়মমতো চলছিল শ্রাদ্ধের কাজ। এরই মধ্যে ঘটে গেল এক বিপত্তি। সেই শ্রাদ্ধের কাজের জন্য প্যান্ডেলে ব্যবহার করা হয়েছে ত্রিপল। আর সেই ত্রিপলেই দেখা গেল ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো অর্থাৎ সেই ত্রিপল আসলে ত্রাণের জন্য বণ্টন হওয়া ত্রিপল। সেই ত্রিপল পুরসভা কর্মী পেলেন কোথায়, তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন!

ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে। দুর্গাপুরের নগর নিগমের ৪ নম্বর ব্যরোর কর্মী এই শুভ দত্ত। জানা গিয়েছে, বাম জমানায় বাম বিধায়কের হাত ধরে তিনি পুরসভায় চাকরি পেয়েছিলেন। সম্প্রতি সিপিএমের পার্টি সদস্য থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এই শুভ দত্তকে। তবে সিপিএমের পশ্চিম ২ এরিয়া কমিটি অফিসে এখনও নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে তাঁর। বাম আমলে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ ছিল।

এবার মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল ব্যবহার হওয়ার ঘটনায় এই পুরকর্মী বড় বিতর্কে। যেন গলদঘর্ম অবস্থা তাঁর। যে সরকারি ত্রিপল দুর্গত মানুষদের জন্য পাঠানো হয়েছিল সরকারের তরফে, সেই ত্রিপল ব্যবহার হচ্ছে পুরকর্মীর মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের প্যান্ডেলে। এই নিয়ে বিরোধীরা নানান কটাক্ষ করেছেন।

কিন্তু কোথা থেকে এল এই ত্রিপল। পুরকর্মী শুভ দত্তের কথায়, তিনি জানেন না, তাঁর মায়ের পারলৌকিক কাজে কীভাবে এই সরকারি ত্রাণের ত্রিপল এল। তাঁর কথায়, ডেকোরেটর কর্মী হয়ত এই ত্রিপল এনেছেন। অন্যদিকে আবার ডেকোরেট্র কর্মী বলছেন, বাড়ির মালিক অর্থাৎ শুভ দত্তই এই ত্রিপল দিয়েছেন। এই নিয়ে তুমুল শোরগোল এলাকায়।  

এই ঘটনায় তদন্ত হবে বলে জানান তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তিকে নগর নিগমে চাকরি দিয়েছিল সিপিএম। পরে স্থায়ীও করে দেয়। আমার মনে হয় দুর্গতদের জন্যে রাখা ত্রিপল চুরি করেছে। আমি নিগমের চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়কে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে অনুরোধ করব। এটাই সিপিএম। রাতে চুরি করে সকালে সেই চুরির দায় চাপায় তৃণমূলের উপর”।

এই বিষয়ে দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, “ঘোরতর অন্যায় কাজ করেছেন ওই কর্মী। তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

আরও পড়ুনঃ পুরনিগমের অ্যাকাউন্ট থেকে আচমকাই উধাও লক্ষ লক্ষ টাকা, ধুয়ে মুছে সাফ অ্যাকাউন্ট, কে হাতাল এত সরকারি টাকা?

অন্যদিকে, সিপিএমের পশ্চিম ২ এরিয়া কমিটির সম্পাদক প্রভাস সাঁই-ও এই কাজের বিরোধিতা করেন। বলেন, “উনি দলের সদস্য নন। আর ওটা পার্টি অফিস নয়। ট্রাস্টের অফিস। সবাই আসতে পারেন। তবে উনি দলের সমর্থক হতে পারেন সক্রিয় সদস্য নন। তাও আমরা অভিযোগ খতিয়ে দেখব”।

RELATED Articles