টিকটকে আলাপ থেকে পালিয়ে বিয়ে, মুর্শিদাবাদে স্বামীর অত্যাচারে আত্মহত্যা বছর কুড়ির তরুণীর

সোশ্যাল মিডিয়া বড় ভয়ঙ্কর! একথা আমাদের বারংবার বোঝানো হলেও আমরা কেউ বুঝিনা। এবার এই সোশ্যাল মিডিয়ারই মাশুল দিলেন বহরমপুর গার্লস কলেজের গণিত সাম্মানিক নিয়ে পাঠরত এক ছাত্রী (Girl)। সম্প্রতি এই ছাত্রীর মামাতো ভাই ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন যেখানে জানা যাচ্ছে যে এই ছাত্রী গত ৯ই সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন তা ভয়ঙ্কর।

বোনের সঙ্গে একটি ছেলের বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে এই পোস্টদাতা লিখেছেন যে, সম্ভবত মুর্শিদাবাদের ডোমকল এর বাসিন্দা কৌশিক মুখোপাধ্যায় (Koushik Mukherjee) নামে এই ছেলেটির সঙ্গে তার বোনের পরিচয় হয় টিকটক এর (Tiktok) মাধ্যমে। আলাপ গড়ায় ঘনিষ্ঠতায় এবং সেখান থেকে তার বোন পালিয়ে বিয়ে করে কৌশিককে। বিয়ের পরেই কৌশিক এর আসল রূপ প্রকাশ পায় যখন তার বোন জানতে পারেন যে ছেলেটি বেকার অথচ বোনকে বলেছিল যে সে স্টেট ব্যাংকে কর্মরত!

এছাড়া বিয়ের একমাস পর বোনের উপর অত্যাচার শুরু করে শ্বশুর-শাশুড়ি। খেতে দেওয়া হতো মাপ করে। কৌশিককে জানালে কৌশিকের অত্যাচার বাড়তো মেয়েটির উপর। এরপরে তার বোন জানতে পারে যে কৌশিক এর আগে অনেক মেয়ের সঙ্গে এরকম করেছে এবং বিয়ের পর অনেক মেয়ের সঙ্গেই কৌশিকের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সঙ্গে নম্বর দিয়ে ফোনে কথা বলা থেকে অশ্লীল ভিডিও কলিং সব কিছুই করত কৌশিক। এমনকি তার বোনের পরিচয় কেউ জিজ্ঞাসা করলে কৌশিক বলতো ওটা আমার বৌদি!

শেষ পর্যন্ত স্বামীর এই আচরণ সহ্য করতে না পেরে বিয়ের ছয় মাসের মাথায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা (Suicide) করেন এই মেধাবী ছাত্রীটি। ছেলেটির কুকর্মের সমস্ত প্রমাণ মেয়েটি তার ফোনে রেখে গিয়েছিল। তার উপর ভিত্তি করে কৌশিক এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে তারা সবাই পলাতক। এইজন্যেই মেয়েটির ভাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলেটির ছবি দিয়ে পোস্ট করে সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে কেউ এই ছেলেটি কে দেখতে পেলে যেন অবিলম্বে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়া যে কত ভয়ঙ্কর এবং মানুষকে বিশ্বাস করা যে কতটা অপরাধ তা জানো জীবন দিয়ে বুঝিয়ে গেল বহরমপুর এর এই মেধাবী ছাত্রী।

RELATED Articles

Leave a Comment