EWS Reservation Controversy: ওবিসি বাতিলের পর এবার ইডব্লিউএসে মুসলিম! রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে উঠছে প্রশ্ন!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি যেন ফের একবার নতুন বিতর্কের মুখে। একদিকে রাজ্যের ওবিসি তালিকা বাতিল নিয়ে ইতিমধ্যেই চলছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, তার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইডব্লিউএস (Economically Weaker Section) প্রসঙ্গ। সাধারণ শ্রেণির মধ্যে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সংরক্ষণের পথ খুলে দিলেও, এই প্রক্রিয়াকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠেছে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে।

সম্প্রতি রাজ্য সরকার একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে যেখানে বলা হয়েছে, যাঁরা এসসি, এসটি বা ওবিসি ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত নন, অথচ তাঁদের পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার কম, তাঁদের ইডব্লিউএস হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি, তাঁদের ৫ একরের বেশি কৃষিজমি থাকা চলবে না এবং শহরে বসবাসের ক্ষেত্রে তাঁদের বাড়ির আয়তন ১০০০ বর্গফুটের মধ্যে হতে হবে। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্ত মূলত সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সাধারণ শ্রেণির মানুষদের জন্যই গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে বিতর্কের সূত্রপাত একেবারে অন্য জায়গায়। নতুন ইডব্লিউএস তালিকায় কিছু নির্দিষ্ট মুসলিম সম্প্রদায়ের উল্লেখ থাকায়, প্রশ্ন উঠেছে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে। তালিকায় নাম রয়েছে বেলদার মুসলিম, খোট্টা মুসলিম, মুসলিম সরদার, ভাটিয়া মুসলিম প্রভৃতি শ্রেণির। সোশ্যাল মিডিয়াতে কেউ কেউ দাবি করছেন, রাজ্য সরকার ওবিসি-কে বাতিল করে এবার মুসলিম সম্প্রদায়কে গোপনে ইডব্লিউএসে ঢোকানোর চেষ্টা করছে। বিরোধীদের বক্তব্য, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ।

সোশ্যাল মিডিয়াতে অনিন্দিতা পাল নামের এক ব্যক্তিত্ব অভিযোগ করেছেন, “সরকার নির্লজ্জভাবে মুসলিম তোষণের পথ নিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘুমিয়ে থাকুন, আর রাজনীতি করুন, তারপর আইন বদলে মুসলিমদের জায়গা দিন।” কেউ কেউ বলছেন, রামনবমীর শোভাযাত্রা আটকে দিয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে কাজ করছেন মুখ্যমন্ত্রী, অন্যদিকে ইডব্লিউএস-এর মাধ্যমে মুসলিমদের সুযোগ দিচ্ছেন। যদিও সরকারি তরফে এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি এখনো।

আরও পড়ুনঃ Raja Bazar Science College: সন্ধ্যা নামলেই কলেজের ইউনিয়ন রুমে মদের আসর! অভিযুক্ত ছাত্রনেতা, ভাইরাল অন্দরমহলের ছবি!

তবে বিতর্কের মধ্যেও পরিষ্কার নির্দেশিকা দিয়েছে সরকার। ইডব্লিউএস সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা যাবে অনলাইন ও অফলাইন – দুই পদ্ধতিতেই। অনলাইনে আবেদন করতে হবে Backward Classes Welfare Department-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। প্রয়োজনীয় নথি, আয় সংক্রান্ত তথ্য, ও সম্পত্তির বিবরণ আপলোড করেই আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। অফলাইনে আবেদন করতে গেলে, ব্লক বা মহকুমা অফিসে গিয়ে ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে এই সহজ পদ্ধতি এবং মুসলিম অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যতের নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles