কলেজ মানেই পড়াশোনা আর ভবিষ্যতের প্রস্তুতির ক্ষেত্র। অথচ রাজ্যের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বারবার উঠে আসছে এমন কিছু অভিযোগ, যা গোটা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। কখনও শিক্ষক নিগ্রহ, কখনও ছাত্ররাজনীতির অশুভ ছায়া। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর কলেজ। উঠে এসেছে এমন এক ঘটনা, যা জানার পর চোখ কপালে উঠেছে শিক্ষিত সমাজের।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে কলেজের মধ্যেই এক ব্যক্তি বসে রয়েছেন, আর এক তরুণী ছাত্রীর হাতে মাথা টিপিয়ে নিচ্ছেন তিনি। দাবি, ভিডিওতে যিনি রয়েছেন, তিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) নেতা প্রতীক কুমার দে। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রী প্রথম বর্ষের। অভিযোগ, সোনারপুর কলেজে কো-অর্ডিনেটর পদে থেকে এমন ব্যবহার করছেন প্রতীক। যদিও ভিডিওটি ঘিরে প্রতীক দে দাবি করেছেন, “ভিডিওটা এডিট করা, বিকৃত করে ছড়ানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার কিছুই জানি না।”
সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রতীক কুমার দে কেবল TMCP নেতা নন, রাজপুর টাউন যুব কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবেও পরিচিত। জানা যাচ্ছে, তিনি বারুইপুর কলেজের প্রাক্তনী হয়েও সোনারপুর কলেজের নানা অনুষ্ঠানে ‘দাদাগিরি’ চালাচ্ছেন। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্র নাকি তাঁকে সোনারপুর কলেজের কো-অর্ডিনেটর হিসাবে নিযুক্ত করেছেন। যদিও লাভলি মৈত্র এই বিষয়ে মুখ খোলেননি।
এই ঘটনার বিরুদ্ধেই এবার মুখ খুলেছেন তৃণমূলেরই এক জনপ্রতিনিধি। সোনারপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পাপিয়া হালদার সাফ জানান, “ভিডিওটি এআই নয়, বুঝতে হলে ভিডিও এডিটর হওয়ার দরকার নেই। আমি নিজের চোখে বহুবার দেখেছি। দলকে জানানো হয়েছে। আশা করি দল দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।” একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, কলেজের মতো পবিত্র স্থানে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটে?
আরও পড়ুনঃ EWS Reservation Controversy: ওবিসি বাতিলের পর এবার ইডব্লিউএসে মুসলিম! রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে উঠছে প্রশ্ন!
এদিকে বিজেপিও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। বিজেপি নেতা সুনীপ দাস বলেন, “প্রতীক এতটাই প্রভাবশালী যে, তার দলের কাউন্সিলর লাঞ্ছনার অভিযোগ করেও ফল পাননি। এটা প্রমাণ করে শাসকদলের ভিতরে কী চলছে।” যদিও এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনও কড়া পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন উঠছে, কলেজ ক্যাম্পাসে এমন ঘটনায় আদৌ কি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, না কি সব কিছু ধামাচাপা পড়ে যাবে রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে?





