একটি বিশেষ শব্দগুচ্ছ, ‘দিদি ও দিদি’। এতেই ক্ষেপে বোম মুখ্যমন্ত্রী। তবে নিজের দলের নেতা, কর্মী, সমর্থক হোক বা গোটা রাজ্যের মানুষ, সকলের কাছেই তিনি ‘দিদি’ ডাকেই পরিচিত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে এই শব্দকে মেনে নিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দলেরও অভিযোগ, আসলে মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করতে ‘দিদি ও দিদি’ শব্দগুচ্ছ উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কালচিনির সভা থেকেও এদিন মমতা বলেন, “আমাকে দিদি ও দিদি বলে রোজ ব্যঙ্গ করছে। আমার তাতে কোনও আপত্তি নেই। আমার গুরুত্ব আছে বলেই এসব করছে”।
তবে যে যাই বলুক না কেন, থোড়াই তিনি এসবে পাত্তা দেন। রাজ্যে প্রচারে এসে ফের নরেন্দ্র মোদীর কণ্ঠে উচ্চারণ হল ‘দিদি ও দিদি’। এদিন কোচবিহারের সভা থেকে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাক্যবাণে শানান মোদী। তাঁকে তীর বিঁধতে ‘দিদি ও দিদি’-কেই অস্ত্র করলেন মোদী। এও দাবী করেন যে, নিজের হার নিশ্চিত জেনে গিয়েছেন মমতা, তা তাঁর বক্তব্য ও আচরণেই প্রকাশ পাচ্ছে।
আরও পড়ুন- ভোট দিতে বাধা তৃণমূলের, বুথ দখল, অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর, আতঙ্কের পরিবেশ ডায়মন্ড হারবারে
রাজ্যে নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। শুধু রাজ্যের মানুষই নন, দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিদি বা মমতা দিদি বলেই ডাকা হয়। এবারের নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অস্বস্তিতে ফেলতেই দিদি ডাককে অস্ত্র করেছেন মোদী।
এদিন মোদী মমতাকে কটাক্ষ করে বলেন, “দিদি আজকাল প্রশ্ন করছে আমি কি ভগবান যে ভোটের ফল আগেই বলে দিচ্ছি? দিদি ও দিদি, ভোটে কে হারবে কে জিতবে সেটা বোঝার জন্য ভগবানকে কষ্ট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। জনতা জনার্দনই ভগবানের রূপ। জনতার চেহারা দেখেই হাওয়া কোন দিকে বোঝা যায়৷ আর দ্বিতীয়ত, ভোটের ফলের অনুমান কীভাবে পাওয়া যায়? আপনার রাগ, ব্যবহার, বক্তব্য দেখেই যে কোনও বাচ্চাও বলে দেবে যে আপনি ভোটে হেরে গিয়েছেন, ময়দান ছেড়ে দিয়েছেন”।
আরও পড়ুন- কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজে অখুশি মমতা, ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে টুইট মুখ্যমন্ত্রীর
এদিনের সভা থেকে মোদী অভিযোগ করেন যে বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন মমতা। তা তিনি বলছেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সমস্ত সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু মোদীর দাবী, নিজের হার এড়াতে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।





