আর জি কর কাণ্ডে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই আঙুল উঠেছে অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর নানান কুকীর্তির কথা সামনে আসছে। প্রথমেই তরুণীর মা-বাবাকে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে এ কথা জানানো থেকে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টার জন্য তরুণীর মৃতদেহের পাশে বসে বৈঠক, এমন নানান অভিযোগ উঠে আসছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু ছোটোবেলায় কেমন ছিলেন সন্দীপ ঘোষ? ছাত্র হিসেবেই বা কেমন ছিলেন? জানালেন তাঁর স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা।
জানা গিয়েছে, বনগাঁ হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন সন্দীপ ঘোষ। এই স্কুল থেকেই ১৯৮৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। এই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, ছোটো থেকেই খুবই মেধাবী ছাত্র ছিলেন সন্দীপ ঘোষ। অত্যন্ত ধীরস্থির প্রকৃতির ছিলেন। সেই ছাত্র যে এমন এক ঘটনায় যুক্ত, তা তিনি ভাবতেই পারছেন না।
অন্যদিকে, সন্দীপ ঘোষের স্কুলেরই এক ব্যক্তি জানান, উচ্চমাধ্যমিকে ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। বনগাঁ হাই স্কুলের মেধা তালিকায় তাঁর নামও রয়েছে এখনও। সেই সময় এমন নম্বর পাওয়া কৃতিত্বের। তাঁর জন্য গোটা পাড়া, স্কুল গর্বিত হয়েছিলেন। ডাক্তারি পরীক্ষাতেও ভালো ফল করেন। নরম স্বভাবের হওয়ার সকলের স্নেহের পাত্র ছিলেন সন্দীপ ঘোষ। সেই সন্দীপ কীভাবে এমন হয়ে গেল, তা ভাবতেই পারছেন না তারা।
সন্দীপ ঘোষের অন্য প্রতিবেশী জানান, “ওঁর খুব একটা বন্ধু ছিল না। নরম প্রকৃতির ছেলে ছিল। মেয়েদের সঙ্গে বেশি বন্ধুত্ব ছিল বলে অনেকেই ওঁকে নিয়ে মজা করত। অনেক সময় চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক সাহায্যও করেছে। কিন্তু এখন ওঁর সম্পর্কে যা শুনছি, তা তো ভাবতেই পারছি না। ও অভিযুক্ত। ওঁর দোষ যদি প্রমাণ হয়, তাহলে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত। আসল সত্যিটা সামনে আসার দরকার”।
আবার পার্থসারথি দে নামে এক ব্যক্তি বলেন, বনগাঁ স্কুলের গর্ব ছিলেন সন্দীপ ঘোষ। অনেক সময় বনগাঁবাসীর জন্য চিকিৎসার সুব্যবস্থাও করে দিয়েছেন সন্দীপ ঘোষ, এমনটাই জানান তিনি। কিন্তু আজ যে সন্দীপের কথা তারা শুনছেন, তাঁকে তারা চেনেন না। ওই ব্যক্তির কথায়, আর জি করের অধ্যক্ষ হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছিলেন সন্দীপ ঘোষ।
ব্যক্তির কথায়, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে অবশ্যই কঠোর শাস্তি পেতে হবে সন্দীপ ঘোষকে। আইনের উপর ভরসা রয়েছে তাদের। ওই ব্যক্তি এও বলেন, যদি প্রমাণিত হয়, আর জি করের নারকীয় ঘটনার সঙ্গে সন্দীপ ঘোষ যুক্ত, তাহলে যেন বনগাঁ হাইস্কুলের মেধাবীদের তালিকা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা হয়।





